বরিশাল মেট্রোপলিটনে কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তার বিপুল স্থাবর সম্পদ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রিয়াজের নামে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি ও মূল্যবান জমি রয়েছে, যার বৈধ আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসীর একাংশ।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বরিশাল নগরীর তিনটি স্থানে এএসআই রিয়াজের নামে বা তার নিয়ন্ত্রণে মোট প্রায় ১৮.৫ শতাংশ জমি এবং একাধিক স্থাপনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে এই সম্পদের মালিকানা ও মূল্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, নগরীর রুপাতলী আদর্শ সড়কে প্রায় ৬ শতাংশ জমির ওপর একটি একতলা ভবন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর এলাকায় প্রায় ৫.৫ শতাংশ খালি জমি এবং জিয়ানগর বাজার এলাকায় প্রায় ৭ শতাংশ জমির ওপর একটি টিনশেড ভবন ও মার্কেট রয়েছে।
এসব সম্পদের বিষয়ে জানতে এএসআই রিয়াজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে রুপাতলী এলাকার বাড়ি ও জমি ৬২ লাখ টাকায় বিক্রির কথা বলেন বলে দাবি করা হয়। পরে প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর আয়-ব্যয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তের মাধ্যমে সম্পদের বৈধ উৎস নিশ্চিত হলে বিভ্রান্তির অবসান হবে, আর অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এবিষয় এএসআই রিয়াজের বক্তব্য জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা পাওয়া যায়নি।