


ন্যাশনাল ডেস্ক: রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত তরুণীর নাম রিয়া আক্তার। তিনি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের হস্তিশুণ্ড গ্রামের মো. মোক্তার হাওলাদারের মেয়ে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির সহায়তায় আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। পরে ডিএনএ প্রোফাইলিং ও আইনি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিহত হিসেবে রিয়া আক্তারের পরিচয় নিশ্চিত হয়।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাতপুর ইউনিয়নের বটপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে একটি আবাদী জমি থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় না পাওয়ায় বদরগঞ্জ থানা পুলিশ দেশের সব থানায় জরুরি বেতার বার্তা পাঠায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব তথ্যের সূত্র ধরেই বিষয়টি নিহতের পরিবারের নজরে আসে।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা রংপুরে গিয়ে আইনি শনাক্তকরণ শেষে মরদেহ গ্রহণ করেন।
নিহতের পরিবার জানায়, রিয়া আক্তার আগে ঢাকার মিরপুর-১৩ এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। পরে চাকরি পরিবর্তন করে গত ৪–৫ মাস ধরে গাজীপুর চৌরাস্তার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন। সর্বশেষ ১১ জানুয়ারি তার সঙ্গে পরিবারের মোবাইলে যোগাযোগ হয়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা বলেন, “আমরা কল্পনাও করিনি, আমাদের মেয়েকে এভাবে বস্তাবন্দি অবস্থায় ফিরে পাব। যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার বলেন, “গত ১৫ জানুয়ারি বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।”