নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: লোডশেডিংয়ের অজুহাতে বরিশালের বাজারে বেড়েছে মুরগির মাংস ও ডিমের দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। তবে সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) বরিশাল নগরীর রূপাতলী, চৌমাথা, নথুল্লাবাদ ও বাংলাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয় বিক্রেতারা বলছেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে খামার পর্যায়ে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব বাজারেও পড়েছে।
নতুন বাজারের মুদি দোকানি জসিম উদ্দিন বলেন, “১৫ দিন আগে ডিমের হালি ছিল ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে ৪৫ টাকা, আর এখন ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়েই দাম বাড়ছে।”
রূপাতলী এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে খামারে মুরগির ওজন ঠিকমতো বাড়ছে না। দুই সপ্তাহ আগে ব্রয়লার ১৭০ টাকা কেজি ছিল, এখন ১৯০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, খাবারের দাম ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
কাশিপুরের খামারি মাসুম গাজী বলেন, “লোডশেডিংয়ের সময় খামারে ৫০টিরও বেশি ব্রয়লার মারা গেছে। খাবারের দামও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গেছে এবং বাজারে প্রভাব পড়েছে।”
আরেক খামারি হাসিব মিয়া জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে লেয়ার মুরগির উৎপাদন কমে গেছে। অনেক মুরগি ডিম দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, “১০০ মুরগির মধ্যে অর্ধেকই এখন ডিম দিচ্ছে না। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।”
এদিকে সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাজারে কোনো ধরনের তদারকি নেই। তাই প্রতিনিয়ত পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ।
নগরীর বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, “সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে দাম বাড়ছে। লোডশেডিংকে অজুহাত বানিয়ে সবকিছুর দাম বাড়ানো হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী জানান, “ক্রেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”