ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙা উপজেলার কাপুরিয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে দুই গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে ছোড়া গুলিতে সুমন শেখ গুরুতর আহত হন। এ সময় আশপাশের মসজিদের মাইকে সংঘর্ষের খবর প্রচার করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। পরে আহত সুমনকে ভাঙা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন নিহতের বড় ভাই জিহাদ শেখ।
নিহত সুমন শেখ ভাঙা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুরিয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা এবং মিলন শেখের ছেলে।
ভাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের কারণে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিনি আরও জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাপুরিয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি নিজে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।