বরিশাল নগরীর নতুন বাজার মরকখোলা পুল এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি রেস্তোরাঁয় হামলা, দোকান ভাঙচুর, দুই নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দোকান থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা।
সোমবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নতুন বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঝাড়ু মিছিলও করেন তারা।
আহত রেনু বেগম ও তার বোন মালা আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী রেনু বেগম অভিযোগ করেন, দুপুরে কাউনিয়ার বাগানবাড়ি এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে একটি বিরোধের ঘটনা ঘটে। সেই বিরোধে জড়িত কয়েকজন তাদের রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করতেন এবং দোকানের সামনে অবস্থান করতেন—এমন অভিযোগ তুলে রাতে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলে করে প্রায় ৭০-৮০ জন এসে হামলা চালান।
তার অভিযোগ, হামলাকারীরা দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে খাবার-দাবার রাস্তায় ফেলে দেয়। এ সময় তাকে ও তার বোনকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। প্রকাশ্যে তাদের শ্লীলতাহানি করা হয় এবং চুল ধরে টেনে লাথি মারা হয়।
রেনু বেগম বলেন, “আমরা কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত নই। শুধু কিছু মানুষ আমাদের দোকানে আসতেন, এ কারণেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
রেনুর বোন মালা আক্তার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ক্যাশবাক্স থেকে প্রায় ৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তার দাবি, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রাতুল, ওয়ালিউল ইসলাম তামিম এবং গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ছাত্রদলের সভাপতি তাসনিমুল ফেরদৌস হাসান।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ও মহানগর ছাত্রদলের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে এরপরও স্থানীয়রা অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, “দুপুরে আমাদের কর্মী, গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকে মরকখোলা পুল এলাকায় একদল সন্ত্রাসী মারধর করে। পরে ওই ঘটনার অভিযোগ দিতে থানায় যাওয়ার সময় আমাদের আরেক শিক্ষার্থীর ওপরও হামলা হয়। হামলাকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা কারও ওপর হামলা করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, “ছাত্রদল কখনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। যদি ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ নারীদের ওপর হামলা বা শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”