রাসেল,বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের দপদপিয়া সেতুতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং আহত ব্যক্তির সুচিকিৎসার দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টা থেকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দপদপিয়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। চরম ভোগান্তিতে পড়েন বরিশাল, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ৯ আগস্ট দপদপিয়া সেতুতে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় সিফাত নামে এক তরুণ নিহত এবং রিফাত নামে আরেকজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি এবং আহত রিফাতের চিকিৎসার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ কারণে নিহত সিফাতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, আহত রিফাতের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘নিহত সিফাত ও আহত রিফাতের পরিবারের পাশে এখন পর্যন্ত কেউ দাঁড়ায়নি। তাদের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচি চলবে।’
অবরোধের কারণে ঢাকা-কুয়াকাটা রুটে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পটুয়াখালী থেকে বরিশালগামী যাত্রী জাহিদ বলেন, ‘জরুরি কাজে বরিশাল যাচ্ছিলাম। কিন্তু এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এখানে আটকে আছি। অবরোধের কারণে সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।’
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, যাতে জনভোগান্তি না হয়। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়ে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’
ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটি আমাদের সমিতির আওতাধীন নয়। এটি রুপাতলী মিনি বাস মালিক সমিতির বিষয়। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।’
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুপাতলী মিনি বাস মালিক সমিতির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
https://slotbet.online/