বরিশাল সংবাদ ডেস্ক:
বরিশালে দলীয় কর্মী হত্যা এবং চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত, বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিয়াজ মাহমুদ মিল্টন ওরফে মিল্টন চৌধুরীর একটি ‘টর্চারসেল’ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর বরিশাল সদর আসনের জেলা পরিষদ মার্কেটের ছাদে থাকা মিল্টনের তথাকথিত রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নগরীর কাউনিয়া বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মিল্টন চৌধুরী জেলা পরিষদ মার্কেটের ছাদে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে একটি টর্চারসেল গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেখানে এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। তার অত্যাচারে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
গ্রেপ্তার ও পূর্ব ইতিহাস
গত ১৮ এপ্রিল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে অভিযুক্ত মিল্টনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন দুপুরেই চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও দলীয় কর্মীকে হত্যা এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।
রাজনৈতিক অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মিল্টনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী নগরীর কাউনিয়া সাধুর বটতলা এলাকায় বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসায় যান। এ সময় মজিবর রহমান সরোয়ার এলাকাবাসীকে জানান, ‘মিল্টন দলের কেউ নয় এবং তাকে দল থেকে আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে।’
এমপির সাথে কথা বলার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফিরে এসে নতুন বাজার এলাকায় মিল্টনের কার্যালয়টি দ্বিতীয় দফায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। এসময় কার্যালয়ের কাঠের অবকাঠামো ভাঙচুরের পাশাপাশি আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল খালে নিক্ষেপ করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সনজিৎ কুমার জানান, “বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিল্টনের রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”