নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হলেও বরিশাল বিভাগে হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বিভাগে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৭৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭৫ জনের শরীরে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ পর্যন্ত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, চলতি মে মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ২ হাজার ৪৭৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ৫৯ শিশুর শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১২ শিশুর মৃত্যু হলেও তাদের কারও রক্তে হাম-রুবেলা ভাইরাস শনাক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া ৫ হাজার ৩১৫ শিশুর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৬৯৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। শুধু গত ১৫ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৫০৫ শিশুর মধ্যে ২ হাজার ৩৬৫ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচিতে ৯৮.৬ শতাংশ কভারেজ
গত ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কেন্দ্রে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩৮ শিশুর মধ্যে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭২ জনকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।
বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকাসহ বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলেও পৃথক কর্মসূচি চালানো হয়। জেলার ভিত্তিতে টিকাদানের হার ছিল—
বরিশাল জেলা: ৯৮.৫৮%
বরিশাল সিটি করপোরেশন: ৯৯.৪৫%
পটুয়াখালী: ৯৯.২৮%
ভোলা: ৯৯.০৫%
ঝালকাঠি: ৯৮.৬৮%
বরগুনা: ৯৭.৬৮%
পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সংক্রমণ কিছুটা স্থিতিশীল হলেও উন্নতির সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি। ১০ মে’র পরবর্তী পাঁচ দিনেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে আরও প্রায় এক হাজার শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে আরও তিন শিশু।
শুধু Sher-e-Bangla Medical College Hospital-এ মে মাসের প্রথম ১৫ দিনেই হামের উপসর্গ নিয়ে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে বরিশাল বিভাগের ৪২ উপজেলায় ২ হাজার ৮১৬ শিশু হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ৫১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়। ওই মাসে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়, যার মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছিল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের উচ্চ কভারেজ সত্ত্বেও পূর্বে সংক্রমিত শিশু, টিকাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী এবং জটিল নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ পরিস্থিতিকে এখনও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। অভিভাবকদের সতর্ক থাকা এবং শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।