এস এন পলাশ, বরিশাল: বরিশাল নগরীতে রিকশাচালকের বেশে একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এরা রিকশাচালক বেশে করছে অপরাধ কর্মকাণ্ড। মলম পার্টি, প্রতারক চক্র, রোগীর দালাল, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি, স্বর্ণ প্রতারকমলম পার্টি, শয়তানের নিঃশ্বাস চক্র, রোগীর দালাল, চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদক বিক্রি ও সাপ্লাই, স্বর্ণ প্রতারক, পতিতা হোটেলের দালালসহ অপরাধমূলক কাজ করে চক্রের সদস্যরা। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কতিপয় ‘রিকশাচালক’ গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে চক্রের মূলহোতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিকভাবে রিকশাচালক পরিচয় দিলেও বাস্তবে একটি অংশ সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত। এরা নিয়মিত রিকশা নিয়ে নগরীতে ঘোরাফেরা করলেও যাত্রী পরিবহন না করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সূত্রমতে, নগরীতে প্রায় চার শতাধিক ব্যক্তি এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব চক্রের পেছনে শক্তিশালী ‘গডফাদার’দের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক ছগির হোসেন জানান, গত এক বছরে প্রায় ৩০ জনকে মাদক বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কেউই প্রকৃত রিকশাচালক নয়, বরং রিকশাকে অপরাধ কার্যক্রমের বাহন হিসেবে ব্যবহার করছিল।
নগরীর রসূলপুর, মোহাম্মদপুর, কাউনিয়া ও ভাটিখানা এলাকায় এমন শতাধিক কথিত রিকশাচালকের উপস্থিতি রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এসব এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে একটি সক্রিয় চক্র জড়িত বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে রূপাতলি, নথুল্লাবাদ, লঞ্চঘাট ও বেলতলা খেয়াঘাট এলাকায় স্বর্ণ প্রতারণা ও রোগীর দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া কাউনিয়া, বিসিক ও ত্রিশ গোডাউন এলাকায় মলম পার্টি চক্রের উপস্থিতি রয়েছে। গত এক সপ্তাহে কাউনিয়া ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এসব চক্রের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর তালুকদার জানান, বিসিক এলাকায় রিকশাচালক সেজে থাকা অনেকেই ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এবং গ্রেপ্তারের কিছুদিন পরই জামিনে বের হয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে।
অভিযোগ রয়েছে, কাউনিয়া পুরানপাড়া এলাকার ‘সোনা কাওসার’ নামে এক ব্যক্তি স্বর্ণ প্রতারণা চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় তার অনুসারীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে পলাশপুর ও বৌবাজার এলাকায় চোর, ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের একটি অংশ রাতে রিকশা নিয়ে ঘোরাফেরা করে অপরাধ সংঘটিত করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শহরকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। না হলে অপরাধ প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধীরা যেভাবেই কাজ করুক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।