নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ১৯৮৫ সালে নির্মিত একটি সাধারণ পৌর ভবন এখন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান ‘নগর ভবন’। তবে বয়সের ভার ও পরিকল্পনাবিহীন সম্প্রসারণের চাপে ভবনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেয়ালে ফাটল ও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা।
নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় ৪৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই ভবনের কাজ শুরু হয় ৮০-র দশকের মাঝামাঝি সময়ে। ১৯৯০ সালে উদ্বোধনের পর ২০০২ সালে এটি সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। তবে সময়ের সঙ্গে জনবল ও সেবা বাড়লেও বাড়েনি অবকাঠামো। উল্টো মূল নকশা উপেক্ষা করে দোতলা ভবনটিকে তিন তলায় রূপান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে কক্ষ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০টিতে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র দুই তলা। অতিরিক্ত তলা যুক্ত করায় এটি ‘ওভারলোডেড’ হয়ে পড়েছে এবং ভূমিকম্পসহ যে কোনো ঝুঁকিতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের বিম ও প্রধান কলামে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বর্তমানে প্রায় ১৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এই ভবনে কাজ করছেন, যেখানে ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৪০০ জনের। প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বিভিন্ন সেবা নিতে এখানে আসেন। সম্প্রতি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রসারিত ভবনের কার্যক্রমও এখানে স্থানান্তর করায় চাপ আরও বেড়েছে।
সেবাগ্রহীতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলেই ঝুঁকির অনুভূতি তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রায় ৬ একর জমির ওপর ১৫ তলা বিশিষ্ট আধুনিক নগর ভবন নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তা পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, “বর্তমান ভবনে সবার জীবনই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদন পেলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।”