নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল নগরীতে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে একের পর এক রেস্তোরাঁ। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই চলছে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত এসব রেস্তোরাঁ এখন জনসাধারণের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ–এর তালিকায় নগরীর মাত্র ৩২টি রেস্তোরাঁর নাম থাকলেও বাস্তবে এই সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। অথচ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা নিরাপদ খাদ্য সনদ। ফলে কাঁচঘেরা বহুতল ভবনে গড়ে ওঠা এসব রেস্তোরাঁকে ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে নগরীর সদর রোড এলাকায় অবস্থিত ইমান আলী টাওয়ারে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির ৯ম ও ১০ম তলায় অবস্থিত ‘স্টার কাবাব’ ও ‘স্কাই লাউঞ্জ’ নামে দুটি রেস্তোরাঁয় প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে কার্যক্রম চলছে। কিন্তু এত বড় আয়তনের এই প্রতিষ্ঠান দুটিতে রয়েছে মাত্র তিনটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। ট্রেড লাইসেন্স ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া অন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বললেই চলে।
এছাড়া ‘স্কাই লাউঞ্জ’-এর নামে কাগজপত্র থাকলেও সাইনবোর্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘স্টার কাবাব’ নাম—যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
একই ধরনের অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে নগরীর পরিচিত রেস্তোরাঁ ‘হান্ডি কড়াই’-তেও। প্রতিষ্ঠানটির রুফটপে যাওয়ার সিঁড়িপথ মাত্র দুই ফুট চওড়া, যা জরুরি পরিস্থিতিতে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ।
বরিশাল সিটি করপোরেশন–এর তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে নিবন্ধিত রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৫৫৫টি। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গ্রেডিংয়ের আওতায় এসেছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, বরিশাল জেলা ও মহানগরীর সভাপতি বিশ্বজিৎ ঘোষ বিশু বলেন, “একসময় সবকিছু একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হতো। এখন অনেক মালিকই কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না।”
বরিশাল জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি জানান, “বর্তমানে ৩২টি প্রতিষ্ঠান আমাদের গ্রেডিংয়ের আওতায় রয়েছে।
পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
এদিকে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও নিবন্ধনহীন রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনও আশ্বাস দিয়ে বলেন, “নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”