বরিশালে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০ বেডের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে দম ফেলার জায়গা নেই। একেকটি বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
বেড না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতেই শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, শিশুদের নিরাপদ চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বেড সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। এক বেডে একাধিক রোগী রাখা ঝুঁকিপূর্ণ বলেও তারা মনে করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মূল ২০ বেডের শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৪২ জন শিশু। এছাড়া নতুন করে চালু করা একটি কক্ষে আরও ৬৬ জন রোগী ভর্তি করা হয়েছে। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. একেএম মশিউল মনির জানিয়েছেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে এবং বেড সংকট সমাধানে চেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত তিন মাসে বরিশাল বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এর মধ্যে শেবাচিম হাসপাতালে ৫৪ জন, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ জন, বরিশাল জেলায় ১৫ জন, পটুয়াখালীতে ১৩ জন, ভোলায় ১২ জন, পিরোজপুরে ৫ জন এবং বরগুনায় ১৪ জন ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে বরিশাল বিভাগে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৩৮৫ জন এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৬৩ জন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।