নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশালের বাকেরগঞ্জে রমজান মাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিফিন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক নারী অভিভাবককে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৪ নং দুধল ইউনিয়নের ৩৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও তার সহযোগীদের হামলায় সালেহা বেগম নামে ওই নারী বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৩৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রমজান মাসে টিফিন না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে স্কুলটির দপ্তরি শফিক মোল্লার সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
পরবর্তীতে এ ঘটনার জের ধরে শফিক মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে সালেহা বেগমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় শফিক মোল্লার নেতৃত্বে সুমা বেগম, সিরাজ মোল্লা , হযরত আলী , কুদ্দুস মোল্লা সহ কযেকজন মিলে লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।
আহত সালেহা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।
ভুক্তভোগীর স্বামী মোহাম্মদ রাসেল মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমার স্ত্রীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। আমি এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।” তিনি এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
একজন সরকারি কর্মচারীর এমন উগ্র ও সন্ত্রাসী আচরণে স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় অভিযুক্ত দপ্তরির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।