রুপন কর অজিত, বরিশাল: বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হলেও গত প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানকার বাসিন্দারা বসবাস করছেন চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। কারণ, এই এলাকাতেই ফেলা হয় নগরীর সব ধরনের বর্জ্য—যা স্থানীয়দের কাছে ‘ময়লাখোলা’ নামে পরিচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বর্জ্যের পচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। প্রতিদিন চলাচলের সময় মানুষকে নাকে রুমাল চেপে পথ পার হতে হয়। একসময় সারা বরিশালের বর্জ্য এনে এখানে ফেলা হতো, ফলে স্থানটি ধীরে ধীরে ‘ময়লাখোলা’ নামে পরিচিতি পায়—যা এখনও একইভাবে বহাল রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, অতীতে একাধিকবার বর্জ্যের ভাগাড়টি শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
সম্প্রতি এ বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালের বর্জ্যও এখানে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে এলাকা।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের মাসিক সভায় ইতোমধ্যে বর্জ্যের ভাগাড় অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নগরীর বাইরে উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করে আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসক জানান, এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে। এতে বর্জ্য পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ তিন দশক ধরে একই সমস্যায় ভুগলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তবে নতুন প্রশাসকের ঘোষণায় কিছুটা আশা তৈরি হলেও তারা আর আশ্বাস নয়—বাস্তবায়ন চান।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘ময়লাখোলা’ সরিয়ে শহরের বাইরে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হোক।