স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল: রোজার মধ্যভাগ পার হওয়ার পর থেকেই বরিশালের ঈদের বাজার ধীরে ধীরে জমে উঠেছে। বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন বিপণি এলাকায় কেনাবেচা পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় দুটি বিপণি এলাকা চকবাজার ও কাটপট্টিতে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নারী-পুরুষ ও শিশুদের স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটার সুবিধার্থে গত ১৫ রমজানের পর থেকেই বরিশাল মহানগরীর ব্যস্ততম বিপণি এলাকা চকবাজার ও কাটপট্টিতে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। ফলে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে দোকানপাটে ঈদপণ্য কেনাকাটা করতে পারছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নগরীর চকবাজার ও কাটপট্টির মূল সড়কজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। একইভাবে হেমায়েত উদ্দিন রোড, সদর রোড, ফজলুল হক এভিনিউ ও বগুড়া রোডের বিভিন্ন ব্র্যান্ডশপেও ঈদ বাজারের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
চকবাজারের শাড়ির দোকান থেকে শুরু করে রেডিমেড শার্ট, ট্রাউজার, টি-শার্ট ও গেঞ্জির দোকানগুলোতে সকাল ১১টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জমজমাট কেনাবেচা চলছে। এতে সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরাও। ব্যবসায়ীদের মতে, গত এক যুগের তুলনায় এবার বরিশালের ঈদ বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বেশি।
তবে কিছু ব্র্যান্ডশপে ছেলে ও মেয়েদের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কিছু ক্রেতার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অধিকাংশ ঈদ পোশাকের দাম গত কয়েক বছরের মতোই থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে তেমন অসন্তোষ নেই। বিশেষ করে চকবাজারে নারীদের থ্রিপিস ও বাহারি শাড়ির প্রতি নারী ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। যদিও নতুন কিছু পণ্যের দাম অনেকের নাগালের বাইরে।
অন্যদিকে পুরো রমজানজুড়ে ইফতারি পণ্যের দাম তুলনামূলক সহনীয় ছিল বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। চিনি, ছোলাবুট, পেঁয়াজ, খেসারি ডাল ও খেজুরসহ বিভিন্ন ইফতারি পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের রোজাদাররা স্বস্তিতে ছিলেন।
এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টিসিবি বরিশাল মহানগরীতে ১৫টি এবং বিভাগের অন্য পাঁচ জেলা সদরে ২৫টি ট্রাকে চিনি, ছোলাবুট, খেজুর, ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল বিক্রি করেছে। পাশাপাশি খাদ্য বিভাগ প্রতিদিন প্রায় ১০০ টন চাল ৩০ টাকা এবং প্রায় ৫৫ টন আটা ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত নৌযান, বাস ও বিমানের বিশেষ ফ্লাইট চালুর দাবিতে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।