নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (বিসিসি) নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ-প্রতিআরোপের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে একপক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিসিসির একাধিক সূত্র জানায়, উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুদকে অভিযোগ এবং সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও প্রমাণ ছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়নমূলক কাজগুলো যথাযথভাবে গণমাধ্যমে না এলেও নেতিবাচক বিষয়গুলো বেশি প্রচার পাচ্ছে।
তিনি জানান, আমানতগঞ্জ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট পুনরায় চালুর জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকার বরাদ্দ আনা হয়েছে, তবে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রায় ২৬ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মীদের মজুরি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বচ্ছ টেন্ডার ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—সাবেক মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ-এর সময়ের কিছু অনিয়মের তথ্য জানতে দুদক ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে তথ্য চেয়েছিল। তবে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া, বিসিসির হাট-বাজার শাখার সাবেক কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো অভিযোগ করেননি।
বিসিসির ভেতরে প্রশাসনিক পদ নিয়ে প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছে। এ প্রসঙ্গে প্রশাসকের একান্ত সচিব লতিকুল্লাহর নামও আলোচনায় এসেছে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাকে ঘিরেই উল্টো ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন-এর প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “এগুলো ছোটখাটো বিষয়। মিডিয়া অনেক সময় বিষয়গুলো বড় করে তুলে ধরে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দ্রুত চালু করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে এবং নিয়মের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।