
বরিশাল প্রতিনিধি: দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। তবে এরই মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে এই বর্ধিত ভাড়া নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভাড়ার নতুন হার
তেলের দাম বাড়ার আগে ডেকের ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা, যা এখন ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
সিঙ্গেল কেবিন ১,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১,২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২,০০০ টাকা থেকে ২,৪০০ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া ফ্যামিলি, সেমি-ভিআইপি ও ভিআইপি কেবিনেও ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীদের ক্ষোভ
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই এভাবে ভাড়া বাড়ানো অযৌক্তিক।
ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, “ভাড়া বাড়লেও আমাদের কিছু করার নেই, বাধ্য হয়েই বেশি টাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।”
মালিকপক্ষের যুক্তি
লঞ্চ মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা ইতোমধ্যে ভাড়া ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
তাদের মতে, বর্তমানে যে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে তা আগের নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় এখনও কম।
জ্বালানি তেলের নতুন দাম
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
ডিজেল: ১০০ → ১১৫ টাকা
কেরোসিন: ১১২ → ১৩০ টাকা
অকটেন: ১২০ → ১৪০ টাকা
পেট্রোল: ১১৬ → ১৩৫ টাকা
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নৌপরিবহন খাতসহ সার্বিক জীবনযাত্রায়।
অন্যান্য নৌপথে পরিস্থিতি ভিন্ন
ঢাকা-চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য নৌপথে এখনো আগের ভাড়াই কার্যকর রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত এলে তবেই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
কর্তৃপক্ষের অবস্থান
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শেষে শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই ভাড়া বাড়ানোয় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলেও লঞ্চ মালিকরা বলছেন, বাড়তি ব্যয় সামলাতে এটি অনিবার্য।