রুপন কর অজিত: জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও বরিশাল নগরীর স্বরোড এলাকার ফার্নিচার ব্যবসায়ীরা তা মানতে নারাজ। রাত পর্যন্ত খোলা রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অধিকাংশ দোকান মালিক।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সরেজমিনে স্বরোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইতি ফার্নিচার, কমলা ফার্নিচার, ভাই ভাই ফার্নিচার, জগবন্ধু ফার্নিচার, জয় ফার্নিচার, মা ফার্নিচার, মকবুল ফার্নিচার, রিয়া ফার্নিচার ও দিপ ফার্নিচারসহ প্রায় সব দোকানই খোলা রয়েছে। দোকানগুলোর ভেতরে আলো জ্বালিয়ে বিক্রয় কার্যক্রম চলছিল, কোথাও কোথাও ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু বিক্রয়ই নয়, কয়েকটি দোকানে রাত পর্যন্ত ফার্নিচার তৈরির কাজও চলতে দেখা গেছে, যা বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা আরও বাড়াচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শপিংমল ও মার্কেট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। এসব ব্যবসায়ীদের দাবি, গরমের কারণে দিনের বেলায় ক্রেতা কম থাকায় সন্ধ্যার পরই মূল বেচাকেনা হয়।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক স্বরোড এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, “দিনের শেষে সন্ধ্যার বিক্রিই আমাদের মূল আয়ের উৎস। দোকান আগেভাগে বন্ধ করলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।”
এদিকে একই চিত্র দেখা গেছে নগরীর বাজার রোড, ভাটিখানা, কাউনিয়া, চকবাজার, নাজিরের পোল, জেল গেট ও হাসপাতাল রোড এলাকাতেও। ছোট-বড় প্রায় সব ধরনের দোকানেই রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে। তবে অনেক ব্যবসায়ী এখনো তা মানছেন না। তিনি বলেন, “নির্দেশনা অমান্য করলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কঠোরতা ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।