বরিশাল প্রতিনিধি: বাবুগঞ্জ উপজেলার ৯ বছর বয়সী শিশু রাইসা মনিকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই মামলার অপর আসামি, ওই কিশোরের বাবা জালাল সিকদার থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠী এলাকা থেকে ভোরে কিশোর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই আসামিকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে আত্মসমর্পণকারীদের স্বজনরা দাবি করেছেন, দুইজনই থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
এদিকে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে একটি ‘চিরকুট’কে ঘিরে। পুলিশ জানায়, ঘটনার পরদিন রাইসার ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে আত্মহত্যার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে সেটি রাইসার লেখা কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চিরকুটের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা গেছে। রাইসার বাবা নজরুল হাওলাদার দাবি করেন, তারা ঘর তল্লাশি করে কোনো চিরকুট পাননি। পরে পুলিশ হঠাৎ করে একটি কাগজ উদ্ধারের কথা জানায়। তার অভিযোগ, আসামিদের রক্ষার জন্যই বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, ঘটনার আগে অভিযুক্ত কিশোর রাইসাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। তাদের দাবি, বাবার প্রশ্রয়েই কিশোর এমন অপরাধে জড়িয়েছে।
গত ১৫ মার্চ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, ঢাকায় নেওয়ার পথে রাইসা ঘটনার বিবরণ দিয়েছিল এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
চিরকুটের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হ্যান্ডরাইটিং বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করে চিরকুটটি কার লেখা তা নিশ্চিত করা হবে।