
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল মহানগরীতে প্রায় ২০ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও ট্রাফিক পুলিশের নামে ‘মাসোয়ারা’ বা বিট বাণিজ্য চালু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নগরীর পরিবহন খাতে ব্যাপক অনিয়ম, হয়রানি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে।
পরিবহন মালিক ও চালকদের দাবি, থ্রি-হুইলার, রেন্ট-এ-কার, আন্তঃজেলা বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহন থেকে মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা দেওয়ার বিনিময়ে সড়কে অবাধ চলাচলের ‘নিশ্চয়তা’ মিলছে, আর না দিলে মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
এক হিসাবে দাবি করা হয়েছে, মাসিক ভিত্তিতে প্রায় ২৩ লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। ট্রাফিক বিভাগের টিআই (প্রশাসন) এখলাসুর রহমান বলেন, “কে বা কারা কীভাবে টাকা নিচ্ছে তা আমাদের জানা নেই। ট্রাফিক পুলিশের কোনো কর্মকর্তা কোনো ধরনের টাকা গ্রহণ করেন না।”
অন্যদিকে ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মো. শরফুদ্দিন বলেন, “মাসোয়ারা বা বিট বাণিজ্য নিয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ জানালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের একাংশের দাবি ভিন্ন। তাদের ভাষ্য, সংগঠনের নির্দিষ্ট প্রতিনিধির মাধ্যমে বিভিন্ন যানবাহন থেকে মাসিক টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা পরে সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
পোর্ট রোড এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, তার পিকআপের জন্য মাসে ৫০০ টাকা দিতে হয়, যার বিনিময়ে মাঝে মাঝে কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় ‘বিশেষ সহযোগিতা’ পাওয়া যায়।
এক ট্রাকচালক অভিযোগ করেন, সারা দেশের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা এবং বরিশালের জন্য আলাদা ৫০০ টাকা দিতে হয়। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নিয়মিত হয়রানি থেকে রক্ষা মেলে বলে তিনি দাবি করেন।
রেন্ট-এ-কার মালিকদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, গাড়ির ধরন ও চলাচলের এলাকার ওপর ভিত্তি করে মাসে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।
অন্যদিকে আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, নির্দিষ্ট রুটের গাড়ির জন্য মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে, যা আগে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল এবং সম্প্রতি আবার শুরু হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নগরীর পরিবহন খাতে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা স্বতন্ত্র যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।