নিজস্ব প্রতিবেদক: চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বরিশালে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে নগর ও জেলার বাসিন্দাদের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার একাংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত হয় বরিশালের দুটি গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে। এসব এলাকায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ২৮০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমান অবকাঠামো সেই চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়।
বর্তমানে তাপমাত্রা ৩৪-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০ মেগাওয়াটে। কিন্তু পিক আওয়ারে বরিশাল পাচ্ছে মাত্র ১৫০ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
নগরীতে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অধীনে ৩৫টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এখানে মোট চাহিদা প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ আসছে ৬০ মেগাওয়াটেরও কম। ফলে প্রতিটি ফিডারে গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
রূপাতলী গ্রিড সাব-স্টেশনে ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে প্রায় ৮৯ মেগাওয়াট। অন্যদিকে কাশিপুর কলাডেমা সাব-স্টেশনে ১৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ এসেছে মাত্র ৬৬ মেগাওয়াট। এতে করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেমে এসেছে ৫০ শতাংশেরও নিচে, ফলে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনার পাশাপাশি দিনের লোডশেডিং ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
নগরীর গীর্জামহল্লা এলাকার ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, “দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে ক্রেতা আসে না। এভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
অন্যদিকে সামনে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় ব্যাঘাতের শঙ্কায় রয়েছেন। মুলাদি উপজেলার বাসিন্দা রাকিব হোসেন বলেন, “এভাবে বিদ্যুৎ গেলে পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না।”
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বরিশাল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, “দুদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এটি সাময়িক সমস্যা হতে পারে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রীষ্মের তাপমাত্রা আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, তাই দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি।