
বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশাল মহানগরীতে কর্মজীবী নারীদের জন্য এখনো কোনো সরকারি মহিলা হোস্টেল বা নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে কাজের প্রয়োজনে নগরীতে আসা নারীরা প্রতিদিন যাতায়াত, বাসস্থান সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ বাস্তবতায় বরিশালে একটি কর্মজীবী নারী হোস্টেল নির্মাণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন মহানগরীতে কর্মজীবী নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক মহিলা হোস্টেল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কর্মসংস্থানের তাগিদে বহু নারী দূরদূরান্ত থেকে বরিশালে এলেও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসনের অভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের নারীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার।
শ্রমজীবী নারীদের অভিজ্ঞতায়ও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। বরিশাল কাউনিয়ায় অবস্থিত একটি জুতা কারখানার শ্রমিক বিথী আক্তার বলেন, ঝালকাঠি থেকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাজে আসা কষ্টকর। একটি মহিলা হোস্টেল থাকলে তাদের মতো নারীরা নিরাপদে থাকতে পারতেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকার কর্মজীবী নারী সোনালী বেগম জানান, বরিশালে কোনো সরকারি মহিলা হোস্টেল না থাকায় বাইরে থেকে আসা নারীদের নিরাপদ আবাসন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় বাসা নেন বা প্রতিদিন দূরপাল্লা পাড়ি দেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকিও উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর অনেক সড়ক ও অলিগলি নারীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে। অতীতে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনাও এ উদ্বেগকে বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মস্থলের কাছাকাছি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আধুনিক মহিলা হোস্টেল গড়ে তোলা গেলে নারীদের যাতায়াতের ঝুঁকি কমবে, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়বে এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে বরিশালের কর্মজীবী নারীদের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।