বরিশাল প্রতিনিধি: বিভাগীয় শহর বরিশালে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪টি কনভেনশন সেন্টার থাকলেও পুরো রমজানজুড়ে ছিল চরম মন্দা। ঈদ পরবর্তী কয়েকটি বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখার আশায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কনভেনশন সেন্টার মালিকরা জানান, অনুষ্ঠান থাকুক বা না থাকুক সারা বছর ৮ থেকে ১৫ জন স্টাফের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ লাখ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিগত দুই বছরের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব, ফলে লোকসান আরও বেড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই বছরে সাধারণ মানুষ বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থেকেছেন। অধিকাংশ বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে নিজ নিজ এলাকায় সম্পন্ন হওয়ায় কনভেনশন সেন্টারগুলোতে বুকিং কমে যায়।
নগরীর স্ব-রোড এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারের পরিচালক আবু বকর সিদ্দিকী সুজিন জানান, আগে অনুষ্ঠানের চাপ এত বেশি ছিল যে অনেক বুকিং ফিরিয়ে দিতে হতো। অথচ এখন স্টাফদের বসিয়ে রেখেই বেতন দিতে হচ্ছে। তবে ঈদের পর কয়েকটি প্রোগ্রাম থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।
তিনি বলেন, একটি কনভেনশন সেন্টার পরিচালনায় নিয়মিত বুকিং অপরিহার্য। দেশের পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় ভবিষ্যতে মানুষ আবার বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করবে—এমনটাই আশা করছেন তারা।
নগরীর আমতলা মোড় এলাকার একটি কনভেনশন হলের ম্যানেজার রুহুল আমিন বলেন, রমজানে তেমন কোনো বুকিং ছিল না। ঈদের পর দুই-তিন দিনের বুকিং রয়েছে, যা ধীরে ধীরে বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, বরিশাল ক্লাবের ‘অমৃত লাল দে’ মিলনায়তনে ঈদের পর ২২ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত কয়েকটি বিয়ের বুকিং রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও আগের তুলনায় বুকিং কিছুটা কম, তবুও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশাবাদী।
নগরীর ইউরো কনভেনশন হলের চেয়ারম্যান এসএম জাকির হোসেন জানান, গত দুই বছরে প্রায় কোনো বুকিং না থাকায় বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে সামনে নিয়মিত বুকিং বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের পর থেকে বিয়ের মৌসুম শুরু হওয়ায় ধীরে ধীরে এই খাত আবার সচল হয়ে উঠবে।