নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের বাজারে হঠাৎ করেই ইলিশ মাছের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দামও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। গত সপ্তাহে বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ১শ থেকে দেড়শ মণ ইলিশ বিক্রি হতো, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মণে।
রোববার (১২ এপ্রিল) পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী ইলিশ নিয়ে বসে আছেন। ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও অধিকাংশই দাম শুনে মাছ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, আকারভেদে ইলিশের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
প্রায় ২০০–২৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০০–১১০০ টাকায়, ৩০০–৩৫০ গ্রাম ১৩০০–১৪০০ টাকা, ৪০০–৫০০ গ্রাম ১৭৫০–১৮০০ টাকা, ৭০০–৮০০ গ্রাম ২৩০০–২৪০০ টাকা এবং ১ কেজি ইলিশ ৫০০০–৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের মাছ পাইকারিতে ৬০০০–৬২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে একটি অংশ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।
মাছ কিনতে আসা আকরাম নামের এক ক্রেতা বলেন, “গত সপ্তাহে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ৮০০–১০০০ টাকায় কিনেছিলাম। এখন দাম আকাশচুম্বী।”
একইভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রেহেনা সিদ্দিক বলেন, “পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়েছে, আর সেই সুযোগেই দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন ইলিশের দামে পান্তা-ইলিশ তো দূরের কথা, পান্তা-জাটকাও জোটে না।”
মৎস্য আড়তদার জহির সিকদার জানান, মেঘনা ঘেরা অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং নববর্ষের কারণে সরবরাহ কমে গেছে, যার ফলে দাম কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
পোর্ট রোড ইজারাদার কামাল সিকদার বলেন, গত সপ্তাহে যেখানে ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে ২০ থেকে ২৫ মণে।
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোহসীন জানান, মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাছ ধরা কমেছে। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।