পিরোজপুর প্রতিনিধি: নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি এলাকায় যুবকের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বরিশাল থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—তারিকুল ইসলাম সম্রাট (৩৪) ও আবেদিন মাঝি রাজু (৪২)। সম্রাট বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী। রাজুর বাড়ি পিরোজপুরের দুর্গাপুর ইউনিয়নে, তিনি পেশাদার মাদককারবারি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, নিহত গোপাল চন্দ্র দাস (৪৫) বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় ট্রাকচালক। নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সম্রাট ও রাজু মোটরসাইকেলে করে গোপাল চন্দ্র দাসকে নেছারাবাদের সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের একটি ইটভাটার পাশে সন্ধ্যা নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যা করে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেয়।
ঘটনার দিন বিকেলে নেছারাবাদ থানা পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে নিহতের ভাই মানিক চন্দ্র দাস অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার জানান, হত্যার পর অভিযুক্তরা নিহতের মাথা ও হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নদীতে ফেলে দেয়। ফলে এখনো সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের অনুরোধে র্যাব-৮ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে শনিবার দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর চৌমাথা এলাকা থেকে সম্রাটকে এবং রাত ৮টার দিকে বরিশাল নগরীর স্টিমারঘাট এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মাদ কামরুজ্জামানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।