স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল: ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। গত এক সপ্তাহে তিনটি পৃথক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে।
সর্বশেষ গত ৩ মার্চ ঢাকায় কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার প্রান্ত মন্ডল (২৪) মোটরসাইকেলে স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে পাথরঘাটা উপজেলার রূপধন গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে উজিরপুরের ইচলাদি এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরু মহাসড়ক, অতিরিক্ত গতি এবং যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। সামনে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের ভূরঘাটা থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার মহাসড়কের পাঁচটি এলাকাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, ইল্লা, কটকস্থল, উজিরপুরের সোনারবাংলা ও রামগতি এলাকা।
এ ছাড়া গৌরনদীর বার্থী, টরকী, আশোকাঠি, মাহিলাড়া ও বাটাজোর এবং উজিরপুরের মোড়াকাঠি, সানুহার, জয়শ্রী ও ইচলাদি অংশকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মহাসড়কের পাশে ডোবা, নালা ও খাল থাকাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ঈদকে সামনে রেখে দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে মোবাইল টিম ও টহল জোরদার করার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
সাকুরা পরিবহনের দক্ষিণাঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক পলাশ হাওলাদার বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন যানবাহনের চলাচল বেড়েছে। ঈদের সময় ঢাকার বিভিন্ন বাস এসে এ রুটে যাত্রী পরিবহন করে। এ কারণে অনেক চালক মহাসড়ক সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি দুর্ঘটনা কমাতে ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন বাস চলাচল বন্ধের পাশাপাশি থ্রি-হুইলার, নসিমন-করিমন ও ভটভটির চলাচল নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।
গৌরনদী মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, “ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত না করা হলে দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। মহাসড়ক সরু হওয়ায় প্রচুর যানবাহন চলাচল করে এবং অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। এসব নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।”