স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল: নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, এবারের ঈদে লঞ্চযাত্রায় স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্ভোগ হয়েছে। তবে কোথাও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকলে তা সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় বরিশাল নদীবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্দরে থাকা ঢাকাগামী সব লঞ্চ ঘুরে দেখা হয়েছে। সরকারি ভাড়ার তালিকা ও ১০ শতাংশ ভাড়া কমানোর নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্ধারিত ৩৬৩ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা নির্দেশনার চেয়েও কম।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া না দেন। ঘাট এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত লোকজনের উপস্থিতি নেই এবং হকারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নৌকা থেকে লঞ্চে ওঠার ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
রাজিব আহসান বলেন, সাধারণ সময়ে যেখানে ৩ থেকে ৫টি লঞ্চ ভেড়ে, সেখানে বর্তমানে ১০টি লঞ্চ রয়েছে। ফলে পন্টুনে জায়গা সংকট তৈরি হয়েছে এবং এক লঞ্চের পেছনে আরেকটি লঞ্চ ভেড়াতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, লঞ্চে যাত্রী ডেকে আনার প্রবণতা স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট মালিক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সমস্যাগুলো একদিনে তৈরি হয়নি, তাই সমাধানেও সময় লাগবে। তবে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন নৌঘাট পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে এবং কোথাও দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও লঞ্চ মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।