বিশেষ প্রতিনিধি: ঈদ এলেই বরিশাল-ঢাকা নৌপথে লঞ্চভাড়া বাড়ানো ও কেবিন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, বছরের অন্য সময় কম ভাড়া নেওয়া হলেও ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কেবিন টিকিট পেতে হচ্ছে দ্বিগুণ দামে।
বরিশাল নদীবন্দর ঘাট থেকে ঢাকাগামী একাধিক লঞ্চের ডেক যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা বছর যেখানে ডেক ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা, সেখানে ঈদে তা বেড়ে ৩০০ টাকায় নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, যাত্রীসংখ্যা বাড়লেই ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
ঢাকাগামী বিভিন্ন লঞ্চ—সুন্দরবন-১৬, সুরভী, কুয়াকাটা, পারাবত-১৮, শুভরাজ, এম খান-৭ ও মানামী—এর যাত্রীরা জানান, ঈদের আগে-পরে অন্তত ১০-১৫ দিন এ ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া কেবিন টিকিট কাউন্টারে না পাওয়া গেলেও দালালদের মাধ্যমে বেশি দামে সহজেই মিলছে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রুপম, ব্যবসায়ী আরিফ রহমান ও বেসরকারি চাকরিজীবী ইসহাক মৃধা জানান, “স্বাভাবিক সময়ে ডেক ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা হলেও এখন ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর কেবিন টিকিট কালোবাজারি ছাড়া পাওয়া যায় না।”
সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, ডেকের ভাড়া ৪০৪ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১,৬১৬ টাকা এবং ডাবল কেবিন ৩,২৩২ টাকা। তবে বাস্তবে স্বাভাবিক সময়ে এর চেয়ে কম ভাড়া নেওয়া হলেও ঈদে সেই ভাড়াই বাড়তি মনে হচ্ছে বলে দাবি যাত্রীদের।
অন্যদিকে, লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিচ্ছে। তাদের মতে, স্বাভাবিক সময়ে যাত্রী কম থাকায় ভাড়া কমিয়ে নেওয়া হয়, আর ঈদে যাত্রী বাড়লে নির্ধারিত ভাড়ার কাছাকাছি নেওয়া হয়।
লঞ্চ মালিকদের দাবি, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় সারা বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে ঈদ মৌসুমেই কিছুটা আয় করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হয়।
এদিকে কেবিন টিকিট নিয়ে কালোবাজারি চক্রের দৌরাত্ম্যও বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র লঞ্চ কোম্পানির ভেতরের লোকজনের সঙ্গে যোগসাজশে টিকিট সংগ্রহ করে পরে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা কাউন্টারে টিকিট না পেলেও দালালদের মাধ্যমে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষের একজন ম্যানেজার জানান, “কিছু টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হয়, তবে কারা করছে তা আমাদের জানা নেই।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যাত্রীদের দাবি, ঈদে বাড়তি ভাড়া ও টিকিট সিন্ডিকেট বন্ধে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি, নইলে প্রতি বছর একই ভোগান্তির শিকার হতে হবে।