

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: দীর্ঘ অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং বৈশাখের আগাম ভারী বর্ষণে বরিশাল-ফরিদপুর-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা/বরগুনা জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮) অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সড়ক যোগাযোগের এই মহাসড়কটির ওপর নির্ভরশীল বরিশাল বিভাগসহ বৃহত্তর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ। ফলে আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে যাত্রী দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের মতে, ঈদুল আজহার আগে ও পরে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এই মহাসড়ক ব্যবহার করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করবেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ, পিচ উঠে যাওয়া এবং অসমতল অবস্থার কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।
ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালী, কুয়াকাটা ও বরগুনা পর্যন্ত বিস্তৃত জাতীয় মহাসড়ক-৮ (N-8) দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ পথ। বিভাগীয় শহর বরিশালসহ ছয় জেলা ও ৪২ উপজেলার মানুষের রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এই মহাসড়কের ওপরই নির্ভরশীল।
১৯৬০ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে নির্মিত এই মহাসড়কটি মূলত ৫ টন ধারণক্ষমতা ও ১২ ফুট প্রস্থের ছিল। পরে এটি ২৪ ফুটে উন্নীত করা হলেও পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন হয়নি। বর্তমানে পায়রা সমুদ্রবন্দর চালু হওয়ায় প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ টন ওজনের কন্টেইনারবাহী যানবাহন চলাচল করছে, যা সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল-ফরিদপুর ও বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে যানবাহনের চাপ অন্তত তিনগুণ বেড়েছে। কিন্তু ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত মাত্র ৯১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে এখনো ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় লাগছে। অপ্রশস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৫ সালে সরকার মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর অর্থায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রস্তুত হলেও গত এক দশকেও প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা এবং পরবর্তী ভারী বর্ষণে সড়কের বিটুমিনাস স্তর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সময়মতো মেরামত কাজ না হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদ মৌসুমে দীর্ঘ যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা এবং যাত্রী দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা ও পিরোজপুর জেলার মানুষের জন্য এটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দাবি, ঈদের আগে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করতে হবে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ৬ লেন উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।