


বরিশালে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে একই সবজি বিক্রি হচ্ছে আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে বরিশাল নগরীর একমাত্র পাইকারি সবজির বাজার বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদীসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি শিম (কালো) গত সপ্তাহে কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। শিম (সাদা) ৮–১০ টাকা থেকে বেড়ে ১২ টাকা হয়েছে। বাঁধাকপি ১০ টাকা থেকে বেড়ে ১২–১৫ টাকা, ফুলকপি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ৭০–৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৪০–৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। মিষ্টি কুমড়ার দাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫–৪০ টাকা, লাউ ২০–২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাকলা হালি ২৫ টাকা, লেবু হালি ১২–১৫ টাকা। বেগুন (কালো) ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০–৪৫ টাকা এবং বেগুন (সাদা) ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩০–৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজি ১০০–১১০ টাকায়, করলা ৬০–৬৫ টাকা, শসা ৭০–৭৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪৫ টাকা, লাউ ৪০ টাকা। কাঁচাকলা হালি ৩০ টাকা ও লেবু হালি ১৫–২০ টাকা। বেগুন (কালো) ৫০–৬০ টাকা এবং বেগুন (সাদা) ৪০–৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম (কালো) ৫০ টাকা, শিম (সাদা) ২০ টাকা, বাঁধাকপি ১৫–২০ টাকা ও ফুলকপি ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মাংসের বাজারেও দাম স্থিতিশীলভাবে চড়া রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০–১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০–২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০–২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। রুই মাছ কেজি ৩০০–৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০–৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০–১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০–২২০ টাকা, চিংড়ি প্রকারভেদে ৫৫০–৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০–৪০০ টাকা ও মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনে লেবার খরচ, ভ্যান ভাড়া, ইজারা ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে পরিবহন খরচও বেড়েছে। এসব কারণে খুচরা বাজারে কিছুটা বেশি দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে।
বরিশালের পাইকারি সবজি বাজার বহুমুখী সিটি মার্কেটের দুলাল বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. আমিন শুভ জানান, বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসতে পারে। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করা হচ্ছে।
সবজির এমন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।