ঢাকা 11:04 pm, Sunday, 20 September 2026
শিরোনাম:
বরিশালের কেডিসি ও বেলস পার্কে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান বরিশালে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে ফুলের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন বিএমপির কমিউনিটি পুলিশ কাবাডিতে পুরুষ দলে চ্যাম্পিয়ন কোতোয়ালি, নারী দলে কাউনিয়া চিকিৎসক-জনবল সংকটে বেহাল দশা বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্যখাত বরিশালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বরিশালে জি-মরফিন ইনজেকশনসহ নারী গ্রেপ্তার কাউনিয়া থানার বিশেষ অভিযানে ৯৩ জন আটক বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজা সহ আটক ২ কাউনিয়ায় থানায় ১৫ দিনে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ২২ কাউনিয়ায় থানার মাদকবিরোধী অভিযানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মান্না সুমন আটক

ফেইজবুক পেইজ- Barishal Sangbad Digital

বরিশালে ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া তিন সাবেক নেতাকে ফিরিয়ে নিল বিএনপি

সংবাদকর্মী
  • প্রকাশের সময়: 02:24:18 am, Thursday, 8 January 2026
  • / 392 Time View
🚨 ব্রেকিং নিউজ: আজকের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন 🔰 ধন্যবাদ 🔰

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন সাবেক নেতাকে পুনরায় দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি। লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বহিষ্কারের প্রায় আড়াই বছর পর বুধবার (৭ জানুয়ারি) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার পাওয়া তিন নেতা হলেন—বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদ। এদের মধ্যে হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদ বরিশাল সিটি করপোরেশনের দুটি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার ছিলেন।
উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপনসহ বিএনপির মোট ১৯ জন নেতা অংশ নেন। ওই সময় নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ ও ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনের ডাক দিলেও দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি তাদের ‘বেইমান’ হিসেবে চিহ্নিত করে একই বছরের ৪ জুন ১৯ জন নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারপত্রে উল্লেখ করা হয়,
“ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আপনাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হলো।”
তবে একই সঙ্গে বহিষ্কৃত অপর ১৬ নেতার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বরিশাল মহানগর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে এসব নেতা কার্যত ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী বৈধতা দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করেই তারা ওই নির্বাচনে অংশ নেন।
দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের মতে, যাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ ও আপসের অভিযোগ রয়েছে, তাদের পুনর্বাসন বিএনপির আদর্শ ও আন্দোলনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তৃণমূল নেতা বলেন,
“যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্বাচনে গিয়ে দলকে বিতর্কিত করেছে, আজ তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। আর যারা রাজপথে ছিল, মামলা-হামলা সহ্য করেছে, তাদের মূল্যায়ন নেই—এটা দুঃখজনক।”
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্যাগ :

এই সংবাদটি আপনার সোসালমিডিয়া শেয়ার করুন

বরিশালে ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া তিন সাবেক নেতাকে ফিরিয়ে নিল বিএনপি

প্রকাশের সময়: 02:24:18 am, Thursday, 8 January 2026

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন সাবেক নেতাকে পুনরায় দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি। লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বহিষ্কারের প্রায় আড়াই বছর পর বুধবার (৭ জানুয়ারি) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার পাওয়া তিন নেতা হলেন—বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদ। এদের মধ্যে হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদ বরিশাল সিটি করপোরেশনের দুটি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার ছিলেন।
উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপনসহ বিএনপির মোট ১৯ জন নেতা অংশ নেন। ওই সময় নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ ও ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনের ডাক দিলেও দলীয় নির্দেশ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি তাদের ‘বেইমান’ হিসেবে চিহ্নিত করে একই বছরের ৪ জুন ১৯ জন নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারপত্রে উল্লেখ করা হয়,
“ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আপনাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হলো।”
তবে একই সঙ্গে বহিষ্কৃত অপর ১৬ নেতার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বরিশাল মহানগর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে এসব নেতা কার্যত ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী বৈধতা দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করেই তারা ওই নির্বাচনে অংশ নেন।
দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের মতে, যাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ ও আপসের অভিযোগ রয়েছে, তাদের পুনর্বাসন বিএনপির আদর্শ ও আন্দোলনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তৃণমূল নেতা বলেন,
“যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্বাচনে গিয়ে দলকে বিতর্কিত করেছে, আজ তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। আর যারা রাজপথে ছিল, মামলা-হামলা সহ্য করেছে, তাদের মূল্যায়ন নেই—এটা দুঃখজনক।”
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।