সুমন,স্পেশাল ক্রাইম রিপোর্টার- অভিযান হয়, আটক হয়, মামলা হয়—কিন্তু কিছুদিন পরই আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে মাদক কারবার। বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকায় এমনই এক চক্রের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্য কেনাবেচার ধরন বদলে এখন আরও গোপন কৌশলে চলছে মাদকের কারবার। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান সত্ত্বেও মাদকের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—অভিযানে যদি বারবার খুচরা পর্যায়ের লোকজন ধরা পড়ে, তাহলে মাদকের মূল সরবরাহকারী ও অর্থের জোগানদাতারা কোথায়? কারা তাদের পেছন থেকে সহযোগিতা করছে? আর অভিযান শেষ হওয়ার পরই কীভাবে আবার একই এলাকায় মাদকের তৎপরতা শুরু হচ্ছে?
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভাটিখানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান শুরু হলে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও পরে আবারও তৎপর হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে এই চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা শাওন ওরফে ‘চায়না শাওন’-এর বিরুদ্ধে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, মাদক-সংক্রান্ত মামলাতেও তার নাম রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শাওন ঐএলাকায় মাদক কারবার পরিচালনা করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে স্থানীয়রা বলছেন, মাদক কারবারের সঙ্গে কিশোরদের একটি অংশও জড়িয়ে পড়ছে। তাদের অভিযোগ, কিশোরদের ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ‘চায়না শাওন’ নিজেকে কাউনিয়া থানার সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে—এমন দাবি করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
এখন স্থানীয়দের মূল প্রশ্ন, ভাটিখানায় মাদকের কারবার যদি সত্যিই ফের সক্রিয় হয়ে থাকে, তাহলে এর নেপথ্যে কারা? শুধু খুচরা বিক্রেতাদের আটক করেই কি অভিযান শেষ হবে, নাকি মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা, অর্থের লেনদেন এবং মূল কারবারিদেরও শনাক্ত করা হবে?
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয়দের দাবি, ভাটিখানায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে মাদক কারবারের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা চক্রের সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরো পড়ুন:
বরিশালে মাদকের নতুন ‘হটস্পট’ হিসেবে আলোচনায় ভাটিখানা!
https://slotbet.online/