বরিশাল ও বিশ্বকাপ ঘিরে সর্বশেষ আপডেট পড়ুন এখনই।

বরিশাল সদর উপজেলার একটি বাড়ির শোবার ঘরের এসির ভেতর থেকে চারটি ‘কালনাগিনী’ প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও একটি সাপ উদ্ধার অভিযানের সময় পালিয়ে যায়।
শনিবার বিকেলে উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মজিবুল হক সেন্টুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাপগুলো উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সাপগুলোকে ‘কালনাগিনী’ প্রজাতির বলে শনাক্ত করেছেন।
বিভিন্ন লোককাহিনি ও চলচ্চিত্রে কালনাগিনীকে অত্যন্ত বিষধর ও প্রতিহিংসাপরায়ণ সাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে এ ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ প্রজাতির সাপ গাছ থেকে গাছে গ্লাইড করে যেতে পারে এবং মূলত টিকটিকি, গিরগিটি ও ছোট পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। এ সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর কোনো রেকর্ড নেই।
বাড়ির মালিক মজিবুল হক সেন্টু জানান, শুক্রবার রাতে শোবার ঘরের এসির নিচের অংশে একটি সাপের লেজ দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্ষটি বন্ধ করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। সেখান থেকে উদ্ধারকারী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী-এর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানান, শনিবার বিকেল ৩টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে আড়াই থেকে তিন ফুট দৈর্ঘ্যের চারটি সাপ উদ্ধার করা হয়। তবে এসির আউটডোর ইউনিটে থাকা আরও একটি সাপ ধরার আগেই পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় থাকায় সেখান থেকে এসির পাইপ বা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে সাপগুলো ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার করা সাপগুলো পরবর্তীতে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে বরিশাল নগরীর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের ডিআইজির কক্ষ থেকে চারটি এবং সাগরদী এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে একই প্রজাতির আরও একটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এই খবর সম্পর্কে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন।