
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: প্রায় এক দশক পর আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বরিশাল মহানগরীর অন্যতম বিনোদন ও হাঁটার স্থান ঐতিহ্যবাহী বেল পার্ক। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল ও দোকানপাট উচ্ছেদের পর নগর প্রশাসন পার্কটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করায় নগরবাসীর মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন বেল পার্ক থেকে শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ করেন। এরপর থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু পার্কটিতে হাঁটতে ও সময় কাটাতে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পার্কে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে। এমনকি রাত ১১টা পর্যন্তও বিভিন্ন পেশাজীবীকে ওয়াকওয়েতে হাঁটতে দেখা গেছে। প্রাতঃভ্রমণের পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন ভ্রমণকারীরাও আবার বেল পার্কমুখী হচ্ছেন।
নগর প্রশাসন ইতোমধ্যে পার্কটির নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ওয়াকওয়ের পাশের শোভাবর্ধনকারী গাছগুলোর পরিচর্যা ও ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু করেছে। গত কয়েকদিন ধরে নগর ভবনের কর্মীরা পার্কের বৃক্ষরাজির পরিচর্যা ও সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করছেন।
তবে পার্কটির চারপাশ থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভেতরের অংশে ফেরিওয়ালাদের নানা পসরা নিয়ে বসতে দেখা যাচ্ছে। এতে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ফের এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে পুনরায় অবৈধ দখলের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থা সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মি. বেলের উদ্যোগে প্রায় পৌনে ৯ একর সরকারি খাস জমির ওপর পার্কটি গড়ে তোলা হয়। তার নাম অনুসারেই উদ্যানটির নামকরণ করা হয় ‘বেল পার্ক’।
ঐতিহাসিক এ ময়দানে বিভিন্ন সময়ে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী, ড. কামাল হোসেন ও এইচএম এরশাদসহ জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রেখেছেন।
২০০৪ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র মুজিবুর রহমান সারোয়ারের উদ্যোগে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটির চারপাশে ওয়াকওয়ে, বেঞ্চ, ছাতা, শৌচাগার ও বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে পুরো পার্কজুড়ে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা ও গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের উদ্যোগে দ্বিতীয় ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পূর্ব পাশের নালা সংস্কার, শাপলা চাষ এবং বাঁধ রোডে ফুটপাত ও সোনালু গাছ লাগানোর কাজ করা হয়। যা এখনও নগরবাসীর কাছে সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে রয়েছে।