ঢাকা 7:27 am, Saturday, 3 October 2026
শিরোনাম:
বরিশালে ১৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার, প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর বরিশাল ভাটিখানায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার বরিশাল সিটি নির্বাচন: বিএনপিতে ১১ মনোনয়নপ্রত্যাশী, মাঠে জামায়াত-এনসিপি বরিশালে বাজার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি বরিশালে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার ২৪ বছর পর ফিরছে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৪০ শতাংশ, দিনরাত ভয়াবহ লোডশেডিং বরিশালে গোপন বৈঠক থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১২ নেতাকর্মী আটক বরিশালে বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ বরিশাল নগরীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৬
সর্বশেষ
বরিশালে ১৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার, প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর বরিশালের নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী ঢাকা থেকে উদ্ধার বরিশাল ভাটিখানায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার বরিশাল সিটি নির্বাচন: বিএনপিতে ১১ মনোনয়নপ্রত্যাশী, মাঠে জামায়াত-এনসিপি বরিশালে বাজার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি বরিশালে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং: ৪৮ শিক্ষার্থীর শাস্তি, শোকজ ৬ বরিশালে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ২৪ বছর পর ফিরছে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ বরিশালে মাদকসহ গ্রেপ্তার ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ফেইজবুক পেইজ- Barishal Sangbad Digital

দেশ থেকে যে কৌশলে ভারতে পাচার হচ্ছে ইলিশ

সংবাদকর্মী
  • প্রকাশের সময়: 04:39:11 am, Friday, 26 September 2025
  • / 335 Time View
🚨 ব্রেকিং নিউজ: আজকের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন 🔰 ধন্যবাদ 🔰
বরিশাল নিউজ

ভারতের কোলকাতা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইলিশ পাচার করা হয়। বেশি দামে কিনে কম দামে রপ্তানি তাই পাঠানো বন্ধ বলে দাবি করা হলেও খোঁজ নিয়ে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারত হয়ে তৃতীয় দেশে ইলিশ পাচার হচ্ছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে বেশি দামে কিনে কম দামে ভারতে রপ্তানি করা হয়। সেখান থেকে গোপনে তৃতীয় দেশে পাচার করে কয়েকগুণ লাভ করে সিন্ডিকেট। ভারতে রপ্তানি হওয়া ইলিশ কলকাতাসহ দেশটির বাজারে বিক্রি হয় সামান্যই।

বহু বছর ধরে চলছে ভারতকে ট্রানজিট বানিয়ে ইলিশ পাচার

২০০৭ সাল থেকে বন্ধ বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি। তারপরও বছরে একবার পূজার সময় ইলিশ পাঠানো হয় ভারতে। যেখানে রপ্তানি মূল্য ১ হাজার ৫২৫ সেখানে ২ হাজার-২২শ টাকা খরচ করে কিভাবে যাচ্ছে ইলিশ তাই নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এর উত্তর খুঁজতে গিয়েই মেলে ভারতকে ট্রানজিট বানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইলিশ পাচারের কাহিনি।

কলকাতার একাধিক মাছ ব্যবসায়ী জানান, ‘বহু বছর ধরেই চলছে এভাবে বাংলাদেশি ইলিশ পাচার। বছরজুড়ে চোরাইপথে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসে ইলিশ। সেই ইলিশ হিমায়িত করে পুনরায় বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় ভারত থেকে। কলকাতার কয়েকজন সংবাদকর্মী যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কেজি ১৯শ থেকে ২ হাজার টাকায় কিনে ভারতে পাঠাতে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২১শ থেকে ২২শ টাকা। ডলারে যার মূল্যমান ২০ থেকে ২১ ডলার। খালি চোখে দেখা লোকসান ৫-৬শ টাকা। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেই ইলিশ বিভিন্ন দেশে পুনঃরপ্তানি হয় কেজিপ্রতি ৪০-৪৫ ডলারে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে লাভ দাঁড়ায় ২০ থেকে ২৪ ডলার বা ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে পশ্চিমবঙ্গের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের অন্তত চারজন রপ্তানিকারকের গদি/আড়ত আছে কলকাতার হাওড়াসহ বিভিন্ন বাজারে।

এদের একজন নীরব হোসেন টুটুলের শ্বশুরবাড়ি কলকাতার বশিরহাটে। ৪টি লাইসেন্সে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছেন তিনি। আরও দুই রপ্তানিকারক সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং করপোরেশন ও কেবিসিসহ টুটুলের আড়ত আছে হাওড়া বাজারে। বশিরহাট, বারাসাত ও হাওড়ায় রয়েছে এদের ফ্ল্যাটসহ মাছ ব্যবসার স্থাপনা। টুটুলের শ্বশুরবাড়ির পাশাপাশি অন্যরাও এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) করেছেন আত্মীয়স্বজন। কলকাতার কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার সহায়তায় সেই আত্মীয়স্বজনের নামে করা হয়েছে ভারতীয় রপ্তানিকারকের লাইসেন্স। ওইসব লাইসেন্সেই ভারতকে ট্রানজিট বানিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার হয় বাংলাদেশের ইলিশ। রপ্তানির নামে বাংলাদেশ থেকে যে ইলিশ যায় তার সামান্যই নামে কলকাতার বাজারে। বাকিটা রাখা হয় পাচারের টার্গেটে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে তানিসা এন্টারপ্রাইজের মালিক নীরব হোসেন টুটুলের ফোনে যোগাযোগ করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। কেবিসি ও সেভেন স্টার মালিকদের ফোন দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি।

কলকাতার বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া এসব তথ্যের প্রমাণ মেলে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কয়েকজন বাংলা খাবার হোটেলের মালিক ও প্রবাসী বাংলাদেশির কাছ থেকে। সেসব জায়গায় দেদার মেলে পদ্মার ইলিশ। ভারত হয়ে তা যায় বলে জানিয়েছেন তারা। এক্ষেত্রে চুক্তি হয় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে।

ভারতকে ট্রানজিট বানিয়ে ইলিশ পাচার নিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অনুসন্ধান শুরু করে যুগান্তর। তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর শনিবার দুই দেশের রপ্তানি ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। যথারীতি দুপক্ষই অস্বীকার করে সব। সেই সঙ্গে ঘটে আরও একটি ঘটনা। শনিবার বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির জন্য পাবনার সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং করপোরেশনের দুই ট্রাক ভর্তি ইলিশ যায় বেনাপোল বন্দরে। কিন্তু পরে আকস্মিক সিদ্ধান্তে রপ্তানি না করে ফিরিয়ে আনা হয় ওই ইলিশ। সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত হয় ভারতকে ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে ইলিশ পাচারের বিস্তারিত সংবাদ। এরপর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ইলিশ রপ্তানি।

সেভেন স্টারের বরিশাল প্রতিনিধি কামাল হোসেন দাবি করেন, ‘ক্রয় মূল্যের চেয়ে রপ্তানি মূল্য কম হওয়ায় ভারতে না পাঠিয়ে যশোরের বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে দুই ট্রাক ইলিশ।’ দেশের বাজার থেকে যখন কিনলেন তখনই তো জানতেন যে কেনার চেয়ে রপ্তানির দাম কম, তাহলে বেনাপোল পর্যন্ত পাঠিয়ে কেন ফেরত আনলেন-জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

শুধু সেভেন স্টারই নয়, দেশের বাজার থেকে ইলিশ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রায় সব প্রতিষ্ঠান। এক সুরে সবাই বলতে শুরু করেছেন, বাজার দরের তুলনায় রপ্তানিমূল্য কম হওয়ায় ইলিশ কিনছেন না তারা। বরিশালের রপ্তানিকারক মাহিমা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক বাবুল আলীও বলেছেন একই কথা। অথচ রপ্তানি শুরু হওয়ার পর মাত্র ৩ দিনে প্রায় ৭ হাজার কেজি ইলিশ গেছে ভারতে।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘বেশ বড় একটা সিন্ডিকেট বহু বছর ধরে এই অপকর্ম করছে। এবার সব ফাঁস হওয়ায় রপ্তানি বন্ধ করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

ট্যাগ :

এই সংবাদটি আপনার সোসালমিডিয়া শেয়ার করুন

বরিশাল নিউজ

দেশ থেকে যে কৌশলে ভারতে পাচার হচ্ছে ইলিশ

প্রকাশের সময়: 04:39:11 am, Friday, 26 September 2025

ভারতের কোলকাতা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইলিশ পাচার করা হয়। বেশি দামে কিনে কম দামে রপ্তানি তাই পাঠানো বন্ধ বলে দাবি করা হলেও খোঁজ নিয়ে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারত হয়ে তৃতীয় দেশে ইলিশ পাচার হচ্ছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে বেশি দামে কিনে কম দামে ভারতে রপ্তানি করা হয়। সেখান থেকে গোপনে তৃতীয় দেশে পাচার করে কয়েকগুণ লাভ করে সিন্ডিকেট। ভারতে রপ্তানি হওয়া ইলিশ কলকাতাসহ দেশটির বাজারে বিক্রি হয় সামান্যই।

বহু বছর ধরে চলছে ভারতকে ট্রানজিট বানিয়ে ইলিশ পাচার

২০০৭ সাল থেকে বন্ধ বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি। তারপরও বছরে একবার পূজার সময় ইলিশ পাঠানো হয় ভারতে। যেখানে রপ্তানি মূল্য ১ হাজার ৫২৫ সেখানে ২ হাজার-২২শ টাকা খরচ করে কিভাবে যাচ্ছে ইলিশ তাই নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এর উত্তর খুঁজতে গিয়েই মেলে ভারতকে ট্রানজিট বানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইলিশ পাচারের কাহিনি।

কলকাতার একাধিক মাছ ব্যবসায়ী জানান, ‘বহু বছর ধরেই চলছে এভাবে বাংলাদেশি ইলিশ পাচার। বছরজুড়ে চোরাইপথে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসে ইলিশ। সেই ইলিশ হিমায়িত করে পুনরায় বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় ভারত থেকে। কলকাতার কয়েকজন সংবাদকর্মী যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কেজি ১৯শ থেকে ২ হাজার টাকায় কিনে ভারতে পাঠাতে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২১শ থেকে ২২শ টাকা। ডলারে যার মূল্যমান ২০ থেকে ২১ ডলার। খালি চোখে দেখা লোকসান ৫-৬শ টাকা। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেই ইলিশ বিভিন্ন দেশে পুনঃরপ্তানি হয় কেজিপ্রতি ৪০-৪৫ ডলারে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে লাভ দাঁড়ায় ২০ থেকে ২৪ ডলার বা ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে পশ্চিমবঙ্গের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের অন্তত চারজন রপ্তানিকারকের গদি/আড়ত আছে কলকাতার হাওড়াসহ বিভিন্ন বাজারে।

এদের একজন নীরব হোসেন টুটুলের শ্বশুরবাড়ি কলকাতার বশিরহাটে। ৪টি লাইসেন্সে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছেন তিনি। আরও দুই রপ্তানিকারক সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং করপোরেশন ও কেবিসিসহ টুটুলের আড়ত আছে হাওড়া বাজারে। বশিরহাট, বারাসাত ও হাওড়ায় রয়েছে এদের ফ্ল্যাটসহ মাছ ব্যবসার স্থাপনা। টুটুলের শ্বশুরবাড়ির পাশাপাশি অন্যরাও এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) করেছেন আত্মীয়স্বজন। কলকাতার কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার সহায়তায় সেই আত্মীয়স্বজনের নামে করা হয়েছে ভারতীয় রপ্তানিকারকের লাইসেন্স। ওইসব লাইসেন্সেই ভারতকে ট্রানজিট বানিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার হয় বাংলাদেশের ইলিশ। রপ্তানির নামে বাংলাদেশ থেকে যে ইলিশ যায় তার সামান্যই নামে কলকাতার বাজারে। বাকিটা রাখা হয় পাচারের টার্গেটে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে তানিসা এন্টারপ্রাইজের মালিক নীরব হোসেন টুটুলের ফোনে যোগাযোগ করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। কেবিসি ও সেভেন স্টার মালিকদের ফোন দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি।

কলকাতার বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া এসব তথ্যের প্রমাণ মেলে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কয়েকজন বাংলা খাবার হোটেলের মালিক ও প্রবাসী বাংলাদেশির কাছ থেকে। সেসব জায়গায় দেদার মেলে পদ্মার ইলিশ। ভারত হয়ে তা যায় বলে জানিয়েছেন তারা। এক্ষেত্রে চুক্তি হয় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে।

ভারতকে ট্রানজিট বানিয়ে ইলিশ পাচার নিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অনুসন্ধান শুরু করে যুগান্তর। তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর শনিবার দুই দেশের রপ্তানি ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। যথারীতি দুপক্ষই অস্বীকার করে সব। সেই সঙ্গে ঘটে আরও একটি ঘটনা। শনিবার বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির জন্য পাবনার সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং করপোরেশনের দুই ট্রাক ভর্তি ইলিশ যায় বেনাপোল বন্দরে। কিন্তু পরে আকস্মিক সিদ্ধান্তে রপ্তানি না করে ফিরিয়ে আনা হয় ওই ইলিশ। সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত হয় ভারতকে ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে ইলিশ পাচারের বিস্তারিত সংবাদ। এরপর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ইলিশ রপ্তানি।

সেভেন স্টারের বরিশাল প্রতিনিধি কামাল হোসেন দাবি করেন, ‘ক্রয় মূল্যের চেয়ে রপ্তানি মূল্য কম হওয়ায় ভারতে না পাঠিয়ে যশোরের বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে দুই ট্রাক ইলিশ।’ দেশের বাজার থেকে যখন কিনলেন তখনই তো জানতেন যে কেনার চেয়ে রপ্তানির দাম কম, তাহলে বেনাপোল পর্যন্ত পাঠিয়ে কেন ফেরত আনলেন-জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

শুধু সেভেন স্টারই নয়, দেশের বাজার থেকে ইলিশ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রায় সব প্রতিষ্ঠান। এক সুরে সবাই বলতে শুরু করেছেন, বাজার দরের তুলনায় রপ্তানিমূল্য কম হওয়ায় ইলিশ কিনছেন না তারা। বরিশালের রপ্তানিকারক মাহিমা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক বাবুল আলীও বলেছেন একই কথা। অথচ রপ্তানি শুরু হওয়ার পর মাত্র ৩ দিনে প্রায় ৭ হাজার কেজি ইলিশ গেছে ভারতে।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘বেশ বড় একটা সিন্ডিকেট বহু বছর ধরে এই অপকর্ম করছে। এবার সব ফাঁস হওয়ায় রপ্তানি বন্ধ করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’