বরিশাল বিসিকে প্যাকেজিং কারখানার আড়ালে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
- প্রকাশের সময়: 03:29:46 am, Monday, 2 November 2026
- / 66 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল বিসিক শিল্প এলাকায় প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদনের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ২৫০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন ও আমদানিকৃত পলিপ্রোপিলিনের ৫০ বস্তা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নগরীর কাউনিয়া থানাধীন বিসিক শিল্প এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর মুহাম্মদ ইশতির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ‘পিপি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. রমিজ উদ্দিনকে জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্যাকেজিং তৈরিতে ক্ষতিকর রং ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় বৈধ সনদ ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও ওঠে।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালান। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তাঁরা ক্রেতার ছদ্মবেশে প্রতিষ্ঠানে যান। পরে এনএসআইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র টেকনিশিয়ান মো. মিলন জানান, প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকলেও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পলিথিন উৎপাদনের কোনো অনুমতিও ছিল না। এসব কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২৫০ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের গুদামে থাকা আমদানিকৃত পলিপ্রোপিলিনের ৫০ বস্তা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে আমদানিকৃত কাঁচামালের বৈধ কাগজপত্র বা যথাযথ ভ্যাট চালান দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর মুহাম্মদ ইশতি বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী উৎপাদিত প্রতিটি পণ্যের নাম উল্লেখ থাকার কথা। কিন্তু পরিদর্শনে অধিকাংশ পণ্যের নাম ও ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া সরকার অনুমোদিত প্লাস্টিক প্যাকেজিং মেটেরিয়ালও কম পাওয়া গেছে এবং ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন করা ছিল না। পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ করলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














