বরিশালে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার
- প্রকাশের সময়: 07:29:34 am, Thursday, 1 October 2026
- / 29 Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল নগরীতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীর অধিকাংশ খুচরা দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হলেও অনেক জায়গায় অতিরিক্ত টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না। একই সঙ্গে নগরীর এলপিজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।
এতে বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংকটের পাশাপাশি এলপিজিচালিত থ্রি-হুইলার চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের জন্য এক ফিলিং স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরতে হচ্ছে চালকদের। সংকটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও পরিবহন শ্রমিকরা।
নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা বেগম বলেন, এলাকার বিভিন্ন দোকানে খুঁজেও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এক দোকান থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। রান্নার প্রয়োজনেই বাধ্য হয়ে বাড়তি দাম দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্যারারা রোড এলাকার বাসিন্দা নুরু মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগে যে সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৫০ টাকায় পাওয়া গেছে, মঙ্গলবার সেটি ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এরপরও সব সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। শহরতলির কোনো কোনো দোকানে একই পরিমাণ গ্যাস ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
খুচরা বিক্রেতা আবদুর রাজ্জাক বলেন, এখন তাদের বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার মো. জুয়েল বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে সিলিন্ডারপ্রতি ৫৫ টাকা দাম বেড়েছে। তবে এর পাশাপাশি প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য, চাহিদা অনুযায়ী পণ্য না পাওয়ায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফিলিং স্টেশনেও গ্যাসের সংকট
এলপিজিচালিত থ্রি-হুইলার চালকদের অভিযোগ, বরিশাল নগরীর ১০টি এলপিজি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অর্ধেকের বেশি স্টেশনে অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকছে না বলেও দাবি করেছেন তারা।
থ্রি-হুইলারচালক আবদুর রহমান বলেন, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের চৌমাথা এলাকার মদিনা ফিলিং স্টেশন, গরিয়ারপাড় এলাকার মদিনা ফিলিং স্টেশন এবং রুপাতলীর ডোস্ট ফিলিং স্টেশনে সোমবার থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। একই মহাসড়কের কেডি ফিলিং স্টেশন ও কাশীপুরের সুরভী ফিলিং স্টেশনেও গ্যাস নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বরিশালে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি অনুমোদিত গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যানবাহনের চালকদের বড় একটি অংশের দৈনন্দিন আয় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
রুপাতলীর ডোস্ট ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা শাওন বলেন, কয়েক দিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তদারকির উদ্যোগ ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের
সরবরাহ সংকটকে পুঁজি করে কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, এলপিজি সংকটের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পরবর্তী কার্যদিবস থেকে এ বিষয়ে তদারকি শুরু করা হবে।
সরবরাহ সংকটের কারণে নগরীর সাধারণ ভোক্তা ও এলপিজিচালিত যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ কবে কমবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।














