বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৪০ শতাংশ, দিনরাত ভয়াবহ লোডশেডিং
- প্রকাশের সময়: 07:56:03 am, Wednesday, 30 September 2026
- / 51 Time View
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি আবারও চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ফলে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় কোটি মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চিকিৎসাসেবা, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, পিডিবির বিতরণ কোম্পানি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এবং ছয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে গত দুই দিন ধরে ডে-পিক ও নাইট-পিক আওয়ারে সাড়ে ৪৫০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
অন্যদিকে, বরিশাল অঞ্চলের কয়লা, ডিজেল ও গ্যাসচালিত বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ার মধ্যে গত দুই দিনে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে হাসপাতালগুলোতে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেনারেল ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জরুরি অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কার্যক্রমেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ছে। ডেঙ্গু ও হামের রোগীদের জন্য নির্ধারিত আইসিইউসহ হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে প্রচণ্ড গরমে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে একটি শিফট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা কমার পাশাপাশি অনেকে কাজ হারিয়েছেন।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
কবে নাগাদ এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে বিষয়ে ওজোপাডিকো, পিজিসিবি ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, তাপমাত্রা কমে শীত মৌসুম শুরু হলে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তখন সরবরাহ পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সরবরাহ ঘাটতি কমানো না গেলে জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।














