বরিশাল ও বিশ্বকাপ ঘিরে সর্বশেষ আপডেট পড়ুন এখনই।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। তবে নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব জসিমের কর্মকাণ্ড প্রশাসকের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জন্মনিবন্ধন, বিভিন্ন সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ নাগরিক সেবা নিতে গেলে ওয়ার্ড সচিব জসিমের কাছে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অতিরিক্ত টাকা না দিলে নানা অজুহাতে সেবা বিলম্বিত করা হয় কিংবা ভোগান্তির সৃষ্টি করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি এবং অধিকাংশ বাসিন্দাই নিম্ন আয়ের। ফলে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই এটিকে এক ধরনের জিম্মিদশা বলে মন্তব্য করেছেন।
সূত্র জানায়, জসিম একসময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও তৎকালীন প্যানেল মেয়র মোশাররফ আলী খান বাদশার পিওন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্যানেল মেয়রের প্রভাব খাটিয়ে তাকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন মোশাররফ আলী খান বাদশার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মোশাররফ আলী খান বাদশার মৃত্যুর পর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন কাউন্সিলর তার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে ওই ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে দেন। পরে তৎকালীন নগর প্রশাসন তাকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার সিটি কর্পোরেশনের সব ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ বাতিল করলে কাউন্সিলর না থাকার সুযোগে জসিম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নিজের ইচ্ছামতো নাগরিক সেবা পরিচালনার পাশাপাশি নতুন টিসিবি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, “প্রায় সব ধরনের সেবা নিতে গেলেই অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে কাজ ফেলে রাখা হয়। বাধ্য হয়েই অনেককে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, “আমার প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করতে ওয়ার্ড সচিবের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিই। কিন্তু তিনি আমাকে অন্তত দেড় মাসের বেশি সময় ঘুরিয়েছেন। এতে আমি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এতদিন ঘোরানো হয়েছে, তা বুঝতে পারিনি।”
অপর এক বাসিন্দা বলেন, “আমি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ওয়ার্ড সচিবের কার্যালয়ে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন ঘুরিয়ে শেষে কাগজপত্র ফেরত দিয়ে বলা হয়, এটির প্রত্যয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। অবৈধ সুবিধা না দেওয়ায় আমাকে ভোটার হওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অফিস চলাকালীন সময়ে একাধিকবার ওয়ার্ড সচিবের কার্যালয়ে গেলেও জসিমকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। অভিযুক্ত ওয়ার্ড সচিবের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ওয়ার্ডের নাগরিক সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন তারা।
এই খবর সম্পর্কে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন।