বরিশাল ও বিশ্বকাপ ঘিরে সর্বশেষ আপডেট পড়ুন এখনই।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে বডি স্প্রের তীব্র ঘ্রাণে নবম শ্রেণির ১৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য ১৩ জনকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির একটি শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা হলো— কনা, আনিকা, অন্তরা, ইসরাত, সুমাইয়া, লামিয়া, মারুফ, লিসান, জিসান, মাহিন, তানজু, তানজিলা, শারা মনি, সাদিয়া ও বিথী। তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে জিসান ও মাহিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সহপাঠীদের শরীরে বডি স্প্রে ব্যবহার করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষকরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হান্নান মিয়া বলেন, “নবম শ্রেণির এক ছাত্র তার সহপাঠীদের শরীরে পারফিউম বডি স্প্রে লাগিয়ে দেয়। এ সময় আশপাশে থাকা ১৪ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী ওই ঘ্রাণে শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে। পরে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ব্যবহৃত স্প্রের বোতল জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুজিত ঢালি জানান, “১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার আমিনুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিদ্যালয় ও হাসপাতালে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কী কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর বিদ্যালয় ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এই খবর সম্পর্কে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন।