শবে বরাত: রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির বরকতময় রজনী - বরিশাল সংবাদ
- প্রকাশের সময়: 02:17:52 pm, Saturday, 31 January 2026
- / 629 Time View

শবে বরাত: রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির বরকতময় রজনী
মহান আল্লাহ তায়ালা অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বান্দার গুনাহের চেয়ে তাঁর রহমতকে বড় করে দেখেন এবং নানান সময় ও উপলক্ষ বান্দাকে ক্ষমার পথে ফিরে আসার সুযোগ করে দেন। বান্দা যেন অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসে—এটাই আল্লাহ তায়ালার কামনা।
এমনই এক মহামূল্যবান সুযোগ হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত—যা আমাদের সমাজে ‘শবে বরাত’ নামে পরিচিত। হাদিসের ভাষায় একে বলা হয়েছে লাইলাতুন নিস্ফে মিন শাবান এবং কোরআনের পরিভাষায় এসেছে লাইলাতুম মুবারাকা—বরকতময় রাত।
ক্ষমা ও রহমতের রাত
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
“শাবান মাসের অর্ধরাত্রিতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় ছিলেন এবং বলেন,
“এটি অর্ধ শাবানের রাত—এ রাতে আল্লাহ বান্দাদের প্রতি বিশেষ দয়ার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
ইবাদত ও রোজার ফজিলত
হজরত আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“শাবানের ১৪ তারিখের রাত তোমরা ইবাদতে কাটাও এবং পরদিন রোজা রাখো।”
তাকদির নির্ধারণের প্রসঙ্গ
সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে প্রতিটি হেকমতপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।”
আমাদের করণীয়
- তওবা ও ইস্তিগফার
- তাসবিহ-তাহলিল ও জিকির
- কোরআন তিলাওয়াত
- দরুদ শরিফ পাঠ
- নফল ও কাজা নামাজ
- আল্লাহর কাছে অন্তর থেকে দোয়া
শবে বরাত কোনো বিতর্কের বিষয় নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে এই রাতের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার তাওফিক দান করেন—আমিন।















