বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রকাশ
- প্রকাশের সময়: 10:50:38 am, Wednesday, 13 August 2025
- / 867 Time View
মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, শাসনব্যবস্থায় পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
বিশ্বব্যাপী ২০২৪ সালের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে সারসংক্ষেপে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশ আর আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর গত বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘প্রধান উপদেষ্টা’ করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন। আগস্টের কিছু ঘটনার পর দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে, যদিও কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
আরও বলা হয়, আগের সরকারের আমলে মানবাধিকার-সংক্রান্ত যেসব বিষয়ে উল্লেখ করার মতো গ্রহণযোগ্য খবর রয়েছে, সেগুলো হলো নির্বিচারে বা বেআইনি হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন কিংবা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি, নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা আটক, বিদেশে থাকা সমালোচকদের সরকারিভাবে হয়রানি, মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর বিধিনিষেধ, যার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা সহিংসতার হুমকি, সাংবাদিকদের অযৌক্তিকভাবে গ্রেপ্তার বা বিচার করা এবং সেন্সরশিপ, শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ, শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি বা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা হুমকি, শিশুশ্রমের সবচেয়ে খারাপ ধরন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বিদ্যমান থাকা।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনে জুলাই ও আগস্টে সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। দেশের প্রচলিত বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে বলা হয়, পূর্ববর্তী সরকার বা তার এজেন্টরা নির্বিচারে বা বেআইনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। পূর্ববর্তী সরকার নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা মোট হত্যাকাণ্ডের সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি বা মামলার তদন্তের জন্য স্বচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি শুরু করে। পূর্ববর্তী সরকার যেসব জ্ঞাত ঘটনায় অভিযোগ এনেছিল, সেখানে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা সাধারণত প্রশাসনিক শাস্তি পেতেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের বিচার চলছে বলেও প্রতিবেদনে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়।















