বরিশাল সংবাদ ডেস্ক: বরিশাল সদর উপজেলার চর-কাউয়া ইউনিয়নে অবস্থিত স্বনির্ভর খাল পরিদর্শন করেছেন মো. খায়রুল আলম সুমন, জেলা প্রশাসক, বরিশাল। পরিদর্শনকালে তিনি বিলের পোল সংলগ্ন এলাকায় খালের ভেতরে অবৈধভাবে নির্মিত একটি ভবন দেখতে পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং দ্রুত তা অপসারণের জন্য উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের সময় নাপিত বাড়ি সংলগ্ন খালের শেষ প্রান্তে প্রায় ৫০ ফুট জায়গা ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় এক হাজার একর কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকার বিষয়টি দেখে জেলা প্রশাসক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
খাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ, বরিশালের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম, প্রকৌশলী আতায়ে রাব্বি, প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ এবং বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি-র সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে এলাকার এক ব্যক্তি জমি ক্রয় করে খালের পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি আরেক ব্যক্তি খালের ভেতরে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করায় ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হয়ে যায়। ফলে এলাকার প্রায় আড়াই হাজার একর ফসলি জমি দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় কৃষক পরিবারগুলো দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয় কৃষক জাহাঙ্গীর জানান, স্বনির্ভর খালের প্রবেশমুখে অবৈধ ভবন নির্মাণ এবং শেষ প্রান্তে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় এক হাজার একর জমি অনাবাদি হয়ে গেছে। সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক সরেজমিন পরিদর্শনে এসে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন কৃষকদের দুর্দশা বিবেচনায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর খননকৃত স্বনির্ভর খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেন। পরে বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন খাল পুনঃখনন ও একটি কালভার্ট নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের মধ্যে সাড়ে তিন কিলোমিটার খনন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি কালভার্ট নির্মাণের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, অবশিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হলে এই বিশাল কৃষিজমি আবারও ফসলের সবুজে ভরে উঠবে এবং তাদের জীবনে স্বচ্ছলতা ফিরবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগেই স্বনির্ভর খালটি খনন করা হয়েছিল। খনন কাজ সম্পন্ন হলে তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।