
বরিশাল মহানগরীতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার ভয়ংকর নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসা পলাতক আসামি মান্না সুমন অবশেষে আটক করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীের গোয়েন্দা শাখা।
গত ২৮ অক্টোবর গভীর রাতে নগরীর চড়কাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে একটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয়।।
এর আগে ৭ নভেম্বর দুপুরে, নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর এলাকায় কাউনিয়া থানা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মান্না সুমনের স্ত্রী শিল্পী বেগমকে আটক করে। সেই সেসময়—১০২ পিস ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩০০ মিলিলিটার দেশীয় মদ, কিছু দেশীয় অস্ত্র এবং মাদক বিক্রির নগদ ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৫১০ টাকা পাওয়া যায়।
তবে অভিযানের সময় মান্না পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীের গোয়েন্দা নজরদারি থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। ২৮ তারিখ রাতে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এই দম্পতি বছরের পর বছর ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। একাধিকবার আটক হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ত।
স্থানীয় বাসিন্দা এক বাসিন্দা জানান— “মান্না আর তার স্ত্রী শিল্পি বহুদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বহুবার অভিযোগ দিয়েছি। লোকজন তাদের কারণে আতঙ্কে থাকত। অবশেষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরেছে, এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী এক ব্যবসায়ী জানান—“এই দম্পতির কারণে এলাকার যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। তারা খোলাখুলিভাবেই মাদক বিক্রি করত। বহুবার গ্রেফতার হলেও কিছুদিন পর আবার বের হয়ে এসে আগের মতো ব্যবসা শুরু করত। এবার যেন তারা আর বের হতে না পারে—এটাই আমাদের দাবি।”
কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন—“মান্না ও তার স্ত্রী শিল্পি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। স্ত্রী শিল্পি বেগমকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। মান্না পলাতক থাকায় গোয়েন্দা বিভাগ তাকে নজরদারিতে রাখে। শেষ পর্যন্ত তাকে আমরা আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এলাকায় মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত—কেউই ছাড় পাবে না।”
এ বিষয়ের পূর্বের খবরটি পড়ুন—
🔴আমাদের ফেইজবু পেইজ ফলো দিয়ে একটিভ থাকুন