বাস মালিক সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব পাড়ের চরকাউয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পাঁচটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতির কারণে হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বরিশাল থেকে কীর্তনখোলা নদী পার হয়ে চরকাউয়ায় পৌঁছানো যাত্রীরা বাস না পেয়ে ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারের ওপর নির্ভর করছেন। এ সুযোগে অনেক যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির বর্তমান সভাপতি ও চরকাউয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, চরকাউয়া থেকে লাহারহাট, কাটাদিয়া, মাতব্বরের হাট, লক্ষ্মীপাশা ও ডিসি সড়ক রুটে প্রায় ৬০টি বাস চলাচল করে। মালিক ও শ্রমিকরা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন।
তার অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতা মামুন খন্দকার শ্রম অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়া শনিবার নগরীতে তার একটি ফাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিটি বাস থেকে অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নতুন কমিটির সভাপতি দাবিদার ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খন্দকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শাহাদাৎ হোসেন। তার দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার তিন মাস আগে তাদের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক মো. নাছির খান বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।”
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিন নাইস বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে প্রভাব খাটানোর কারণেই এমন সংকট তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
https://slotbet.online/