বরিশাল ও বিশ্বকাপ ঘিরে সর্বশেষ আপডেট পড়ুন এখনই।

সরকারি বিধিনিষেধ ও নীতিমালা উপেক্ষা করে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক রমরমাভাবে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়ছে মানসিক চাপ, আর অভিভাবকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
অভিযোগ অনুযায়ী, নগরী ও সদর উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজ বাসা কিংবা ভাড়া করা বাসায় ব্যাচভিত্তিক কোচিং পরিচালনা করছেন। প্রতিটি ব্যাচে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে জনপ্রতি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক অভিভাবক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, মূল্যায়নে কম নম্বর দেওয়া, বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করা কিংবা পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে অংশ নিতে প্রভাবিত করা হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে সন্তানদের কোচিংয়ে পাঠাচ্ছেন।
তাদের দাবি, কিছু শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পূর্ণাঙ্গ পাঠদান না করে কোচিং কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর ফলে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিজস্বভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোচিংনির্ভরতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রথম সাময়িক পরীক্ষার আগে উন্নয়ন ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে কোচিং বাণিজ্য শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন খলিফা বলেন, “অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মবহির্ভূত কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য সমান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
এই খবর সম্পর্কে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন।