
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০০২ সালে নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া পুরানপাড়ায় প্রায় ৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ করা হয়। ২০০৪ সাল থেকে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের বর্জ্য সেখানে ফেলা শুরু হয়। পরবর্তীতে এলাকাটি ‘ময়লাখোলা’ নামে পরিচিতি পায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দুই যুগেও এই ডাম্পিং স্টেশন স্থানান্তরের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। উন্মুক্তভাবে ফেলা বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত তরল বর্জ্য পাশের সাপানিয়া খাল হয়ে কীর্তনখোলা নদীতে মিশে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নগরীতে প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ টন গৃহস্থালির বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য অপসারণে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৭২৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। ময়লা পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে ২০টি ট্রাক ও ২২০টি বক্সভ্যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, পলিথিন, কাগজ ও খাবারের উচ্ছিষ্টের স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ডাম্পিং স্টেশনের মাত্র ৪০ গজ দূরেই রয়েছে কাউনিয়া হাউজিং প্রকল্প, যেখানে অন্তত ৫০০ পরিবার বসবাস করছে। এছাড়া আশপাশে কয়েক হাজার মানুষের বসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব, ধোঁয়া এবং পরিবেশ দূষণের কারণে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেছেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য অপসারণে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্থান নির্ধারণ সম্পন্ন হলে বর্তমান ডাম্পিং স্টেশন স্থানান্তর করে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।