
“আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।”
গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব কথা বলেন তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।
তিনি বলেন, “আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। বড়জোর ১৫ দিন এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা হবে, তারপর নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যাবে।”
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে Dhaka Metropolitan Police-এর অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে রামিসাদের বাসার বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন।
পুলিশের তথ্যমতে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজ করতে গিয়ে তার মা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। দরজায় কড়া নাড়ার সময় ভেতরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূল আসামি সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতে তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ রাখেন।
পুলিশের ধারণা, বিকৃত যৌনলালসার শিকার হওয়ার পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলতে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়। ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা রাজধানীর Pallabi Police Station-এ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মোল্লাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয় ছোট্ট রামিসা।
এর আগে রাত ৮টার দিকে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দাফনের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা হান্নান মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা।
রামিসা মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মরহুম হেলাল উদ্দিন মোল্লার নাতনি। সে রাজধানীর পল্লবীর Popular Model High School-এর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মুন্সিগঞ্জ শহরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মশাল মিছিল করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।