ঢাকা 10:05 am, Saturday, 19 September 2026
শিরোনাম:
চিকিৎসক-জনবল সংকটে বেহাল দশা বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্যখাত বরিশালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বরিশালে জি-মরফিন ইনজেকশনসহ নারী গ্রেপ্তার কাউনিয়া থানার বিশেষ অভিযানে ৯৩ জন আটক বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজা সহ আটক ২ কাউনিয়ায় থানায় ১৫ দিনে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ২২ কাউনিয়ায় থানার মাদকবিরোধী অভিযানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মান্না সুমন আটক এয়ারপোর্ট থানার আকস্মিক মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান কাউনিয়ায় থানার সাঁড়াশি অভিযান, ১২ জন আটক কাউনিয়া থানার কমিউনিটি পুলিশিং সভা, মাদক-জুয়া ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান

ফেইজবুক পেইজ- Barishal Sangbad Digital

শেবাচিম হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের সংঘর্ষ, দুই স্বজনকে মারধরের অভিযোগ

🚨 ব্রেকিং নিউজ: আজকের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন 🔰 ধন্যবাদ 🔰

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ সাত দিনের এক নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও শিশুর স্বজনদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মৃত শিশুর দুই স্বজনকে মারধর ও একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। পরে হাসপাতাল প্রশাসন ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা-র চাখার এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল দের সাত দিনের কন্যাশিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে কিছু মেডিকেল শিক্ষার্থী এসে শিশুটির মামা জয়দেবকে মারধর করেন। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে মামুন নামে আরেক যুবকও হামলার শিকার হন। পরে দুজনকে হাসপাতালের নিচতলার জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মৃত শিশুর মা পূজা রানী দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত মৃত সন্তান নিয়ে বসে আছি। আমাদের এখন যেতে দিন। ওদের আর মারধর কইরেন না। আমাদের ছেড়ে দেন।”

তিনি জানান, সন্তানের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই আবেগের বশে কিছু কথা বললেও কারও গায়ে হাত তোলেননি। এরপরও তাঁকে মারধর করে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তালুকদার বলেন, মৃত শিশুর স্বজনরা চিকিৎসার্থীদের আটকে রাখার চেষ্টা করেন। কয়েকজন ছাত্রী শিক্ষার্থীর অ্যাপ্রন, ওড়না ও ব্যাগ টেনে ধরা হয়। দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আরেক শিক্ষার্থী মুনয়াত মুন জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ধাক্কাধাক্কি ও অশোভন আচরণের শিকার হন। পরে আত্মরক্ষার্থে তারা একটি কক্ষে আশ্রয় নেন।

শিশুটির বাবা উজ্জ্বল দে বলেন, সন্তানকে মৃত ঘোষণার পর তাঁর শ্যালক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি শুধু চিকিৎসকদের ওয়ার্ড থেকে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু এরপর তাঁকে ও আরেকজনকে মারধর করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক, মেডিকেল কলেজ প্রশাসন এবং কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। আটক দুই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার অলক কান্তি শর্মা বলেন, শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবার পরিবেশ বজায় রাখতে যেমন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি রোগীদেরও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শেবাচিম হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক-স্বজনদের সংঘর্ষ, দুই স্বজনকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : 02:55:45 pm, Wednesday, 20 May 2026

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ সাত দিনের এক নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও শিশুর স্বজনদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মৃত শিশুর দুই স্বজনকে মারধর ও একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। পরে হাসপাতাল প্রশাসন ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা-র চাখার এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল দের সাত দিনের কন্যাশিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির মৃত্যুর পর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে কিছু মেডিকেল শিক্ষার্থী এসে শিশুটির মামা জয়দেবকে মারধর করেন। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে মামুন নামে আরেক যুবকও হামলার শিকার হন। পরে দুজনকে হাসপাতালের নিচতলার জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মৃত শিশুর মা পূজা রানী দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত মৃত সন্তান নিয়ে বসে আছি। আমাদের এখন যেতে দিন। ওদের আর মারধর কইরেন না। আমাদের ছেড়ে দেন।”

তিনি জানান, সন্তানের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই আবেগের বশে কিছু কথা বললেও কারও গায়ে হাত তোলেননি। এরপরও তাঁকে মারধর করে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তালুকদার বলেন, মৃত শিশুর স্বজনরা চিকিৎসার্থীদের আটকে রাখার চেষ্টা করেন। কয়েকজন ছাত্রী শিক্ষার্থীর অ্যাপ্রন, ওড়না ও ব্যাগ টেনে ধরা হয়। দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আরেক শিক্ষার্থী মুনয়াত মুন জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ধাক্কাধাক্কি ও অশোভন আচরণের শিকার হন। পরে আত্মরক্ষার্থে তারা একটি কক্ষে আশ্রয় নেন।

শিশুটির বাবা উজ্জ্বল দে বলেন, সন্তানকে মৃত ঘোষণার পর তাঁর শ্যালক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি শুধু চিকিৎসকদের ওয়ার্ড থেকে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু এরপর তাঁকে ও আরেকজনকে মারধর করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক, মেডিকেল কলেজ প্রশাসন এবং কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। আটক দুই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার অলক কান্তি শর্মা বলেন, শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবার পরিবেশ বজায় রাখতে যেমন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি রোগীদেরও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।