
বরিশাল প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার-প্রচারণার প্রথম দিনেই বরিশাল সদর-৫ (নগর ও সদর) আসনে শুরু হয়েছে ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশাল নগরী বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের গণসংযোগ, সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণে মুখরিত হয়ে ওঠে।
এদিন বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে মাঠে নেমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন।
দুপুরে বরিশাল সদর-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার জোহরের নামাজ শেষে সদর রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। পরে তিনি সদর রোড, হেমায়েত উদ্দিন রোড, চকবাজারসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন।
এ সময় মজিবর রহমান সরওয়ার বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে পূর্বের মতোই বরিশাল সদর এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ ও জনগণের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। বরিশাল সদরকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলবো।”
অন্যদিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর টাউন হলের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বরিশাল প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে প্রচারণা শুরু করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম। তিনি আগরপুর রোড, সদর রোড ও হেমায়েত উদ্দিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রচারণাকালে মুফতি ফয়জুল করিম বলেন, “নির্বাচিত হলে সমাজ থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অনাচার দূর করাই হবে আমার প্রথম কাজ। একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
এদিকে সকালে বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী নগরীর সদর রোড ও ফকিরবাড়ি রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে ভোট প্রার্থনা করেন।
এছাড়া বিকেলে নগরীর সদর রোড এলাকায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালান।
প্রতীক বরাদ্দের পর প্রথম দিনেই প্রার্থীদের এমন সরব উপস্থিতিতে বরিশাল সদর-৫ আসনে নির্বাচনী আমেজ আরও জমে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।